আগস্ট 4, 2021

মধুখালিতে জাহাঙ্গীর হত্যা মামলার আসামীদের গ্রেফতার দাবিতে মানবববন্ধন

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফরিদপুর টাইমস:

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামালদিয়া ইউনিয়নের মাকড়াইল গ্রামে ব্যবসায়ী হোসেন মিয়া হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন গ্রামবাসী।
বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) বেলা এগারটার দিকে মাকড়াইল বাজারে বাজারের চৌরাস্তায় এই মানব বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় কামালদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোঃ ইউনুস মিয়ার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন কামালদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুল বাশার, এত জাহাঙ্গীর হোসেনের বাবা মোঃ হারুন-অর-রশিদ হিরু মিয়া, মেয়ে মাহমুদা জাহান জ্যোতি, স্থানীয় বাসিন্দা জিয়াউল ইসলাম, হানিফ শেখ, স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার মনজু মণ্ডল, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুস সাত্তার মন্ডল প্রমুখ।

মানববন্ধনে পিতার খুনিদের বিচার চেয়ে প্ল্যাকার্ড হাতে অংশ নেয় নিহতের চার বছর বয়সী শিশু পুত্র শাফিন মাহমুদ সামী ও ১৩ বছর বয়সী মেয়ে জান্নাতুল জাহান প্রীতি।

মানববন্ধনে বক্তব্যকালে নিহতের বাবা হিরু মিয়া বলেন, গত ১১ দিন আগে নৃশংসভাবে জাহাঙ্গীর হোসেনকে হত্যার পর থানায় মামলা দায়ের করা হলেও পুলিশ একজন আসামীকেও গ্রেফতার করতে পারেনি। আসামীরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না।

নিহতের মেয়ে মাহমুদা জাহান জ্যোতি কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমার বাবা সারাজীবন সততার সাথে জীবন পরিচালিত করেছেন। তিনি কারো কোন অন্যায় আচরণ করেছেন বলে শুনিনি। গ্রামে মাদক, সন্ত্রাস ও ইভ টিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় তাঁকে পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

মানববন্ধনে বক্তাগণ অভিযোগ করেন, জাহাঙ্গীর হত্যাকান্ডের আগেই হত্যাকান্ডে জড়িত সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে জানানো হয়েছিল। তখনও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এখন হত্যাকান্ডের পরেও আসামীদের গ্রেফতারের কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছেনা।

প্রসঙ্গত, গত ৫ জুন দুপুরে মধুখালি হতে নিজ গ্রাম মাকরাইল ফেরার পথে জাহাঙ্গীর হোসেনকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার পর ওই রাতেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের পিতা হিরু মিয়া বাদী হয়ে ওয়ালিদ হাসান মামুনকে প্রধান আসামী করে এবং ১৬ জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো কয়েকজনকে আসামী করে মধুখালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এব্যাপারে মধুখালি থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার তদন্তভার ও আসামীদের গ্রেফতারের বিষয়টি সিআইডি দেখছে। আমাদের সহায়তা চাইলে সর্বাত্মক সহায়তা করা হবে।

এব্যাপারে সিআইডির ইন্সপেক্টর আক্তারুজ্জামান মিনা বলেন, মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে। আমরা সঠিক পথেই এগোচ্ছি। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।