আগস্ট 4, 2021

সালথার ঘটনায় জড়িয়ে পড়েছে গ্রাম্য রাজনীতি

বিশেষ প্রতিবেদক, ফরিদপুর টাইমস:

ফরিদপুরের সালথায় পুলিশের সাথে গ্রামবাসীর সংঘর্ষের ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত সবমিলিয়ে ৩৬ জন গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে গঠিত দুটি কমিটি সংশ্লিষ্টদের নিকট হতে ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ ও বক্তব্য গ্রহণ করছেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, সরকারি বাসভবন, ভূমি অফিস, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সসহ অন্যান্য এলাকা পরিদর্শন করেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ। তাদের মধ্যে ছিলেন কাশিয়ানি-মুকসুদপুর এলাকার সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কর্নেল ফারুক হোসেন, প্রেডিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম ও এসএম কামাল হোসেন। এসময় নেতৃবৃন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের চত্বরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন।

বক্তারা এ ঘটনার সাথে হেফাজত ও বিএনপি-জামায়াত জড়িত উল্লেখ করে বলেন, যারা এই ঘটনার সাথে জড়িত তাদের ভিডিও ফুটেজ আছে তাদের একজনও যেন রেহাই না পায়।
এদিকে গত সোমবার রাতের ওই সংঘর্ষের পর সাধারণ গ্রামবাসীদের মাঝে গ্রেফতার আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকে ঘটনার পর থেকেই সালথা ছেড়েছেন। ফলে বিভিন্ন গ্রাম কার্যত পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের সাথে আলাপকালে তারা জানান, যারা এখনো এলাকায় অবস্থান করছেন তারাও গ্রেফতার আতঙ্কে রাতের বেলায় বাড়িতে থাকছেন না। সন্ধার পরেই তারা চলে যাচ্ছেন বাড়ির বাইরে মাঠে বা অন্য কোথাও। তাদের অভিযোগ, জড়িতদের সাথে নিরীহদেরও জড়ানোর চেষ্টা চলছে।

এ ঘটনার সাথে জড়িয়ে পড়েছে গ্রাম্য দলাদলি ও রাজনীতি। ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে একটি মহল তৎপর রয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, সেই রাতে সালথা থানার ওসির সাথে হামলাকারীদের ঠেকাতে কাজ করেছেন এমন একজনকেও ঘটনার সাথে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সালথা বাজারের পাশে অবস্থিত মার্কেট প্রাঙ্গণে অয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, স্থানীয় একজন ইউপি চেয়ারম্যানের বরাত দিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাহিদুজ্জামান সাহিদ ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ওহিদুজ্জামানের নামে বিভ্রান্তিকর খবর প্রচার করা হচ্ছে। এসময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো: ফায়েকুজ্জামান ফকির, আওয়ামী লীগ নেতা খন্দকার হাবিব, সানোয়ার হোসেন, সাব্বির চৌধুরী, সানোয়ার হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, সালথার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় ৩৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১ জনকে আদালতে চালান করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিও ফুটেজ দেখে তারা জড়িতদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছেন।
হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীর সংশ্লিষ্টতার খবরও বেরিয়ে আসছে। তদন্তের স্বার্থে এবিষয়ে তথ্য জানাচ্ছে না পুলিশ।

উল্লেখ্য, গত সোমবার সন্ধায় উপজেলা এসিল্যান্ড মারুফা সুলতানা খান হিরামনি সালথার ফুকরা বাজারে লকডাউন কার্যকর করতে অভিযানে গেলে সাথে থাকা কর্মচারীরা একজন গ্রামবাসীকে পিটিয়ে আহত করেন এমন অভিযোগে তাদের ধাওয়া করে। এরপর গ্রামবাসী থানা ঘেরাও করে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও ভূমি অফিসে তারা অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় দু’জন নিহত হন।