আগস্ট 4, 2021

বরকত-রুবেলের ৫ হাজার ৭শ’ বিঘা জমি ও ৫৫টি গাড়ি ক্রোকের নির্দেশ

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফরিদপুর টাইমস:

অর্থ পাচার মামলায় ফরিদপুরের সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ভাই ইমতিয়াজ হাসান রুবেলের ৪৮৭টি তফশিলে থাকা ৫ হাজার ৭০৬ বিঘা জমি, ৮৮টি ব্যাংক হিসাবে থাকা প্রায় পৌণে ১০ কোটি টাকা সহ তাদের ৫৫ টি বাস, ট্রাক, বিএমডব্লিউ গাড়ি, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এর আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের সরকারী কৌশলী (পিপি) অ্যাডভোকেট তাপস কুমার পাল ।

এর আগে গত বছরের ৯ অক্টোবর একই আদালত বরকত, রুবেল ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ৮৮টি ব্যাংক হিসাব জব্দের আদেশ দিয়েছিলেন। সিআইডির এক আবেদনে তখন জানানো হয়েছিল, আসামী সাজ্জাদ হোসেন বরকত, ইমতিয়াজ হাসান রুবেল, বরকতের স্ত্রী আফরোজা আক্তার, রুবেলের স্ত্রী সোহেলী ইমরোজ পুনম এবং তার শ্বশুর আব্দুল খালেকের ৮৮টি ব্যাংক হিসাব রয়েছে। মামলা তদন্তের স্বার্থে তাদের এসব ব্যাংক হিসাব জব্দ করা দরকার। তবে সেসময়ে এসব ব্যাংক হিসাবে থাকা টাকার পরিমাণ জানায়নি সিআইডি।

ফরিদপুর সদরের ব্রাক্ষণকান্দা এলাকার মরহুম আব্দুস সালাম মন্ডলের সন্তান সাজ্জাদ হোসেন বরকত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে যোগদান করে প্রথমে শহর যুবলীগের সভাপতি ও পরে শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ দখল করেন। এছাড়া জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতির পদও দখল করেন তিনি। একই সময়ে তার ভাই ইমতিয়াজ হাসান রুবেল ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতির পদ দখল করেন। ক্ষমতার সিড়ি বেয়ে রাতারাতি ফরিদপুরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির প্রভাবশালী দুই ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠেন এই দুই সহোদর।

গত বছরের ২৬ জুন বরকত ও রুবেলসহ তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে ২০১২ সালের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন সংশোধনী-২০১৫-এর ৪(২) ধারায় ঢাকার কাফরুল থানায় একটি মামলা দায়ের করে সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার উত্তম কুমার বিশ্বাস।

পিপি অ্যাডভোকেট তাপস কুমার পাল জানান, সিআইডির দায়েরকৃত ওই দুই হাজার কোটি টাকার অর্থ পাচার মামলায় সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ভাই ইমতিয়াজ হাসান রুবেলসহ পাঁচজনের ৮৮টি ব্যাংক হিসাবসহ ওই হিসাবে থাকা ১ কোটি টাকা, তাদের মালিকানাধীন ৫৫টি বাস, ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ি ক্রোক করার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

ওই মামলায় এই দুই ভাই ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে অবৈধ উপায়ে ২ হাজার কোটি টাকা উপার্জন ও পাচারের অভিযোগ আনা হয়।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ২০১০ সাল হতে ১০ বছরে এলজিইডি, বিআরটিএ, সড়ক বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারী দপ্তরের ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন বরকত ও রুবেল। মাদক ব্যবসা, ভূমি দখলেরও অভিযোগ আনা হয় তাদের বিরুদ্ধে। তাদের উপার্জিত সম্পদের মধ্যে এসি, নন-এসিসহ ২৩টি বাস, ড্রাম ট্রাক, বোল্ডার, পাজেরো গাড়ি রয়েছে। উপার্জিত এই অবৈধ সম্পদের বিপুল অংশ তারা হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করেছেন।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৬ মে রাতে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবল চন্দ্র সাহার বাড়িতে হামলার ঘটনায় ১৮ মে সুবল চন্দ্র সাহা কোতয়ালী থানায় অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দাখিল করেন। ওই মামলায় ৬ জুন রাতে বরকত ও রুবেলসহ ৯ জনকে বদরপুরসহ শহরের বিভিন্নস্থান হতে আটক করে পুলিশ। পরবর্তীতে এ মামলার আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয় ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার নাজমুল ইসলাম, জেলা শ্রমিক লীগের কোষাধ্যক্ষ বিল্লাল হোসেন, শহর যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসিবুর রহমান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি নিশান মাহমুদকে।