আগস্ট 4, 2021

নগই’র সমীক্ষার মান বাড়ানোর তাগিদ দিলেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফরিদপুর টাইমস:

পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে সমৃদ্ধশালী করে গড়ে তোলার যেই মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন তা বাস্তবায়নে নদী গবেষণা ইন্সটিটিউট (নগই) এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এই গবেষণা প্রতিষ্ঠানটিকে আরো কার্যকর দেখতে চাই। নগই’তে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃত গবেষণা সমীক্ষা চালাতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ফরিদপুরের নদী গবেষণা ইন্সটিটিউটের হলরুমে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন নগই’র মহাপরিচালক মো. আলিমুদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. রোকন উদ-দৌলা, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সামসুল হক ভোলা, জেলা প্রশাসক অতুল সরকার ও পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান।

পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক প্রতিষ্ঠানটির বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা গবেষণা ও সমীক্ষার মান উন্নয়ন করুন। আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে স্বীকৃতি পায় এমন গবেষণা কর্ম আপনাদের করতে হবে। নগই যেসব ফিজিক্যাল ও ম্যাথমেটিক্যাল সমীক্ষা করে সেব্যাপারে যেন কোন প্রশ্ন না উঠে। তিনি জানান, উপকূল রক্ষায় বিশ্ব ব্যাংক ১০২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সমীক্ষা চালাচ্ছে। নগই থাকতে কেনো তারা এই কাজ করবে? এই কাজ নগই করলে তাতে আপনারাই লাভবান হতেন।

তিনি টেকসই বাঁধ নির্মাণে জাপানের গৃহিত বিশেষ প্রযুক্তির ব্যাপারে নগই’র গবেষকদের খোঁজখবর নেয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, আপনারা পানি উনśয়ন বোর্ড হতে এসব কাজের খোঁজ নিয়ে সেসব স্থানে যান। কাজে যেসব ত্রুটি রয়েছে সেগুলো বের করে ওই প্রকল্প পরিচালককে জানাবেন, আমাকেও জানাবেন। এই যে সরকার প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ করে বাঁধ নির্মাণ করে সেগুলো টেকসই হয়না কেনো? কেনো প্রতিবছরই বাঁধ ভেঙে যায় এসব ব্যাপারে আপনাদের সমীক্ষা চালাতে হবে? প্রয়োজনে আপনাদের গবেষণাপত্র পত্রপত্রিকায় প্রকাশের উদ্যোগ নিন। দেশবাসী জানুক আপনারা দেশের জন্য কি করছেন।

এসময় প্রতিমন্ত্রী দেশের বড় বড় নদীতে প্রতিবছর চর পড়ে নাব্যতা হৃাস ও নৌপথ আটকে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, একেকসময়ে একেক স্থানে কেনো চর পড়ছে এবিষয়টি আপনারা গবেষণা করে বের করুন। ঢাকার দোহার বাজারে পদ্মা সেতুর উজানে একটি ড্রেজিং প্রকল্পের তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রথমে ৫শ’ কোটি টাকা ও পরে ১২শ’ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে ওই ড্রেজিং প্রকল্পে। কিন্তু পদ্মার উজানে এভাবে ড্রেজিং করলে সেতুর উপর কোন প্রভাব পড়বে কিনা সেটি বের করতে হবে। এজন্য পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে বলেছি ওই প্রকল্প পাশের আগে।
তিনি নগই কর্মকর্তাকর্মচারীদের পেনশন সুবিধাসহ অন্যান্য সমস্যা লাঘবে ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ নেয়ার আশ্বাস দেন। একইসাথে গবেষণা কর্ম সম্পাদনে যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান। তিনি বলেন, আমরা নদীকে শাসন করার স্বপ্ন দেখি। নদীমাতৃক বাংলাদেশে টেকসই উন্নয়ন নির্ভর করছে এর উপর। তিনি নগইতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ডিসিপ্লিনের উপরও জোর দেন।

মতবিনিময় সভায় নগই’র বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যাপারে ভিডিও প্রজেক্টের মাধ্যমে তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন করেন জিওটেকনিক্যাল বিভাগের পরিচালক স্বপন কুমার দাস। এসময় অন্যান্যের মধ্যে পরিচাল (প্রশাসন) অরুণ কুমার মহোত্তম, পরিচালক (হাইড্রোলজি) পিন্টু কানুনগোসহ ˆবজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক নগইতে এসে পৌছলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ তাকে শুভেচ্ছা জানাতে আসেন। এসময় অন্যান্যের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহা, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি মাসুদ, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক মোল্যা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রতিমন্ত্রী নগইতে এসে পৌছলে তাঁকে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও নগই’র মহাপরিচালকসহ কর্মকর্তাগণ ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। দুপুরে তিনি ফরিদপুরের মধুখালীতে মধুমতি নদীর ভাঙ্গন দেখতে যান এবং বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ স্মৃতি জাদুঘর ও তার বসতভিটা পরিদর্শন করেন।