October 21, 2020

অন্তরঙ্গ আলাপচারিতায় পুলিশ সুপার আলিমুজ্জামান যা বললেন

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার আলিমুজ্জামান। ছবি- সংগৃহিত।

কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী:

প্রাণের শহর ফরিদপুরকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে হলে এই শহরের বাসিন্দাদেরই এগিয়ে আসতে হবে। এজন্য সবমহল থেকে চালাতে হবে জোড়দার প্রচেষ্টা। বিশেষ করে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সচল করে তুলতে হবে। মনমননে সত্যকে ধারণ করতে হবে।

ফরিদপুরের সবকালের সবচেয়ে জনপ্রিয় পুলিশ সুপার আলিমুজ্জামান (পিপিএম সেবা) একথা বলেন ফরিদপুরে প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে এক ঘনিষ্ট আলাপচারিতায় একথা বলেন। গত রোববার রাতে তিনি আকস্মিক এক পরিদর্শনে আসেন ফরিদপুর প্রেসক্লাবে। এরপর প্রায় ঘন্টাব্যাপী সময় তিনি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অন্তরঙ্গ আলাপে মেতে উঠেন সাংবাদিকদের সাথে। তার কথায় নানা সম্ভাবনার সাথে উঠে আসে বেশ কিছু অসঙ্গতিও। আর আদর্শ সমাজ গড়ে তুলতে তিনি ব্যক্ত করেন মূল্যবান পরামর্শ।

তিনি বলেন, আদর্শ সমাজ গড়তে হলে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সেবামুলক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্রিয় করতে হবে।

পুলিশ সুপার আলিমুজ্জামান বলেন, ফরিদপুরের সামাজিক সংগঠনগুলো ঝিমিয়ে পড়েছে। সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোও নিস্কিয়। সেবামুলক প্রতিষ্ঠানগুলোও মানুষের চাহিদা মেটাতে পারছে না। আবার এখানে শক্তিশালী নাগরিক কমিটিও নেই। এসব কারণে সমাজে অস্থিরতা বাড়ছে। সাধারণ মানুষ অপরাধ প্রবণতার দিকে ধাবিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রামেগঞ্জে এখন ছড়িয়ে পড়েছে মাদকের আগ্রাসন। এই মাদকের কারণে অসংখ্য সম্ভাবনাময় তরুণের জীবনে অন্ধকার নেমে এসেছে। অনেক ভদ্র, সম্ভ্রান্ত পরিবারে মাদকাসক্ত সন্তানের জন্য বিভিষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পারিবারীক বন্ধ কমে যাচ্ছে। এসব পরিবারের নিরব কান্না বেশিরভাগই অগোচরে থেকে যাচ্ছে। কিন্তু সমাজে এর বিরুপ প্রভাব পড়ছে।

এই দশা কাটিয়ে উঠতে হলে সমাজকেই সোচ্চার হতে হবে। আর এজন্য চাই জোড়দার সামাজিক আন্দোলন। সমাজের সব শ্রেণিপেশার মানুষদের নিয়ে এই আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

এসময় সাংবাদিকদের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় উঠে আসে সামাজিকতার আড়ালে নানা ধরণের অসামাজিক কার্যকলাপের বিষয়ও। বিশেষকরে পরকিয়া সম্পর্কে জড়িয়ে নানাবিধ অপরাধের কথাও তিনি তুলে ধরেন।

প্রবাসে থাকা রেমিটেন্স যোদ্ধাদের পরিবারের প্রতি এক শ্রেণির মানুষ লোলুপ দৃষ্টি দেয়ার কথা তিনি বলেন। তাদের স্ত্রীদের একাকী জীবনে প্রবেশ করে মতিভ্রমের সুযোগ নেয় কেউ কেউ। এসব ব্যাপারে অভিভাবকেরা যেনো সচেতন হন। আমরা যেনো মানবিক আচরণের মাধ্যমে তাদেরকে সুস্থ, সুন্দর ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের পরিবেশ বজায় রাখি তারি উপরেও পুলিশ সুপার গুরুত্বারোপ করেন।

সব অবস্থায় সত্যকে ধারণ করার উপরে তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের মাঝে মিথ্যা বলার প্রবণতা রয়েছে। এই মিথ্যা যতো অনিষ্টের মূল। বিষয়টি নৃতাত্ত্বিক দিক দিয়ে দেখতে হবে। আমাদেরকে একটি সুন্দর আদর্শবান সমাজ গড়তে হবে। এই মুহুর্তে এসকল বিষয়ের প্রতি আমাদের অতিরিক্ত যত্নশীল হতে হবে।

সবমিলিয়ে পুলিশ সুপার একটি সুন্দর সমাজ গঠনে একটি আদর্শ পরিবারের প্রতি জোড় দেন। তিনি বলেন, অভিভাবকদের সহিষ্ণু হতে হবে। আর এজন্য সামাজিকভাবেই গড়ে তুলতে হবে সমাজ গড়ার আন্দোলন।

ফরিদপুরের পুলিশ সুপারের সাথে এই অন্তরঙ্গ আলাপচারিতায় উঠে আসে সাম্প্রতিক নানান প্রসঙ্গ। সম্প্রতি ফরিদপুরের বহুল আলোচিত রাঘববোয়াল অপরাধীদের বিরুদ্ধে সফল অভিযান চালিয়ে তিনি সারাদেশে এক নতুন চমক সৃষ্টি করেন।

গত বছরের ২৫ জুলাই ফরিদপুরে যোগ দেন আলিমুজ্জামান। তার নানামুখী জনকল্যাণমুখী কাজ জেলাবাসীর কাছে এক অভূতপূর্ব উদাহরণের নাম। আর এ কারণেই তিনি জনবান্ধব পুলিশ সুপার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন জেলাবাসীর কাছে। পেশাগতজীবনে ফরিদপুরে আসার আগেও পুলিশ সুপার আলিমুজ্জামান ব্যাপক সাফল্য প্রদর্শণ করেন।

ফরিদপুরে যোগদানের আগে তিনি কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের অধীনে সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগে ডিসি হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। সারা পুলিশ বিভাগে অত্যন্ত সৎ, নির্ভীক ও চৌকস অফিসার হিসেবে পরিচিত পুলিশ সুপার আলিমুজ্জামান দেশের জঙ্গি দমনে বিশেষ অবদান রাখেন। আর সে কারণে ২০১৯ সালে তিনি সেবায় বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল (বিপিএম) পদক লাভ করেন।

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার আলিমুজ্জামানকে তাই তুলনা করা হচ্ছে এই জেলারই সাধারণ মানুষের নয়নমনি হিসেবে পরিচিত সাবেক এসপি আব্দুস সাত্তার সাহেবের সাথে। কেউ কেউ বলছেন, কর্ম দক্ষতা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও পুলিশের মাঝে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে তিনি আব্দুস সাত্তার সাহেবকেও অতিক্রম করে গেছেন।

Please follow and like us
error0
Tweet 20
fb-share-icon20