করোনা যুদ্ধে জয়ী ফরিদপুরের ৩৫ পুলিশ এবার প্লাজমা দিচ্ছেন

করোনা যুদ্ধে জয়ী পুলিশ সদস্যরা প্লাজমা দেয়ার আগে ফরিদপুরের পুালিশ সুপার আলিমুজ্জামান ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের সাথে। ছবি- ফরিদপুর টাইমস।

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফরিদপুর টাইমস:

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়ে ওঠা ফরিদপুরের ৩৫ জন পুলিশ সদস্য এবার করোনা আক্রান্ত অন্যদের সুস্থতার জন্য নিজেদের প্লাজমা দিচ্ছেন। তাদেরকে এজন্য ফরিদপুর হতে ঢাকার রাজারবাড়ে পাঠানো উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) পর্যন্ত ফরিদপুর জেলা পুলিশের ৩১২ জন সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে । এর মধ্যে দুই সদস্য এই ভাইরাসের মারা গেলেও সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১৭৪ জন। এদেরই ৩৫ জন এবার প্লাজমা দিবেন।

এ উপলক্ষে জেলা পুলিশ লাইন্স এর হল রুমে আজ বুধবার সকালে বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান (পিপিএম সেবা) জানান, বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের সংক্রমন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রোধে শুরু হতেই ফরিদপুর পুলিশ জেলা পুলিশের প্রত্যেকজন সদস্য একেকজস সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে কাজ করেছেন। দ্বায়িত্বপালনকালে অনেকে আক্রান্ত হচ্ছেন। পুলিশে এই আক্রান্তের হারও বেশি। ইতিমধ্যে দু’জন পুলিশ মৃত্যুবরণও করেছেন।

তিনি বলেন, আশার কথা হচ্ছে আল্লাহর রহমতে অনেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এখন তারা স্বেচ্ছায় আক্রান্ত অন্যদের জন্য প্লাজমা দিতে যাচ্ছেন। এসয়ম অন্যান্যের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল পাশা, সাইফুজ্জামান, রাশেদুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্লাজমা দিতে আগ্রহী পুলিশ সদস্যদের ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানানো হয়।

দেশে করোনা ভাইরাসে প্রাদূর্ভাব দেখা দেওয়ার পর সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে মাঠ পর্যায়ে কর্তব্যের বাইরেও ফরিদপুরের পুলিশ নানাভাবে সচেতনতা মূলক কর্মকান্ডই পরিচালনা করছে। এছাড়াও করোনা আক্রান্তদের মানবিক খাদ্য সহায়তা, তাদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং লাশ দাফন ও সৎকারসহ নানাবিধ মানবিক কাজের মাধ্যমে মানুষের পাশে থেকেছেন।

পুলিশ সুপার আলিমুজ্জামান আরো বলেন, সাম্প্রতিক এই দূর্যোগের সময়ে মানুষের পাশে মানবিক পুলিশ হয়ে আমরা কাজ করতে চাই। এজন্যই করোনা জয়ী ৩৫ পুলিশ সদস্য স্বেচ্ছায় করোনায় আক্রান্ত অন্য রোগীদের সুস্থ করে প্লাজমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের ঢাকা রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।

বিশ্বব্যাপী সৃষ্ট এই করোনা দুর্যোগে এখন পর্যন্ত কার্যকরী ভ্যাকসিন না আসায় প্লাজমা থেরাপীকেই এখন পর্যন্ত স্বীকৃত চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে সেরে ওঠা করোনা আক্রান্ত রোগীর শরীর হতে ২৮ দিনের মধ্যে রক্ত সংগ্রহ করে সেখান হতে প্লাজমা আলাদা করে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে প্রবেশ করানো হয়। এর মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের এন্টিবডি তৈরি হয়ে উঠে।