September 25, 2020

মানি লন্ডারিং মামলায় বরকত-রুবেল ঢাকায় সিআইডির রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর টাইমস:

ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ভাই ইমতিয়াজ হাসান রুবেলকে রিমান্ডে এনেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আজ রোববার সকালে সিআইডির একটি দল বহুল আলোচিত এই দুই ভাইকে ফরিদপুর জেলা কারাগার থেকে বিশেষ নিরাপত্তাযোগে ঢাকার মালিবাগস্থ সিআইডির কার্যালয়ে নিয়ে যায়।

নানাবিধ অবৈধ উপায়ে মাত্র দশ বছরে তাদের দুই ভায়ের বিরুদ্ধে ২ হাজার কোটি টাকা মানি লন্ডারিংয়ের মামলা করেছে সিআইডি। ঢাকার কাফরুল থানায় সিআইডির ইন্সপেক্টর এস এম মিরাজ আল মাহমুদ বাদী হয়ে গত ২৬ জুন এ মামলাটি দায়ের করেন। এ মামলায় ওই দুই ভায়ের বিরুদ্ধে দুই হাজার কোটি টাকার সম্পদ অবৈধ উপায়ে উপার্জন ও পাচারের অভিযোগ আনা হয়। ২০১২ সালের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন সংশোধনী ২০১৫ এর ৪(২) ধারায় এ মামলাটি দায়ের করা হয়।

গত ১৩ জুলাই ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলার ভার্চুয়াল শুনানীতে তাদের দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। ওইদিন ফরিদপুর কারাগারে অন্তরীণ থাকা অবস্থায় জেল গেটে জুম অ্যাপসের মাধ্যমে এ শুনানিতে অংশ নেন বরকত ও তার ভাই রুবেল। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুল ইসলাম দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

সিআইডির দায়েরকৃত এ মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১০ সাল থেকে বর্তমান বছর পর্যন্ত ফরিদপুরের এলজিইডি, বিআরটিএ, সড়ক বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি বিভাগের ঠিকাদারী নিয়ন্ত্রণ করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদদের মালিক হয়েছেন বরকত ও রুবেল। এছাড়া মাদক কারবার করে এবং ভূমি দখল করে অবৈধ সম্পদ করেছেন। এসি নন এসিসহ ২৩টি বাস, ড্রাম ট্রাক, বোল্ডার, পাজেরো গাড়ি মালিক হয়ে এ টাকার উল্লেখযোগ্য অংশ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করেন তারা।

এজাহারে আরও বলা হয়, প্রথম জীবনে এই দুই ভাই রাজবাড়ী রাস্তার মোড়ে এক বিএনপি নেতার ফাই ফরমাস খাটতেন। তখন তাদের সম্পদ বলতে তেমন কিছু ছিল না। ১৯৯৪ সালের ২০ নভেম্বর ওই এলাকায় এক আইনজীবী খুন হন। সে হত্যা মামলার আসামি ছিলেন এই দুই ভাই।

এজাহারে আরও বলা হয়, গত ১৮ জুন তিনি এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিযুক্ত হয়ে তদন্ত শুরু করেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে এই দুই ভাই অন্তত দুই হাজার কোটি টাকা অবৈধ উপায়ে উপার্জন করেছেন।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুরের জেল সুপার আব্দুর রহিম বলেন, তাদের জিম্মায় থাকা বরকত ও রুবেল রোববার ভোরে তাদের কাছ থেকে বুঝে নেন সিআইডির একটি দল।

সিআইডির তদন্ত শেষে দায়েরকৃত এ মানি লন্ডারিং মামলায় ওই দুই ভায়ের বিরুদ্ধে দুই হাজার কোটি টাকার সম্পদ অবৈধ উপায়ে উপার্জন ও পাচারের অভিযোগ আনা হয়। ২০১২ সালের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন সংশোধনী ২০১৫ এর ৪(২) ধারায় এ মামলাটি দায়ের করা হয়।

ফরিদপুর জেলা আ.লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহার বাড়িতে দুই দফা হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত একটি মামলার আসামী হিসেবে গত ৭ জুন রাতে শহরের বদরপুরসহ বিভিন্ন মহল্লায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ বরকত ও রুবেলসহ তাদের নয় সহযোগীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের নিকট হতে অস্ত্র, মাদক ও সরকারী চালের বস্তাসহ বিপুল পরিমাণ দেশিবিদেশী মুদ্রা জব্দ করা হয়।

Please follow and like us
error0
Tweet 20
fb-share-icon20