September 25, 2020

রহস্যজনক কারণে করোনাযোদ্ধা এক মেডিকেল টেকনোলজিস্ট চাকরি নিয়মিত হতে বঞ্চিত

অস্থায়ী নিয়োগ প্রাপ্তদের চাকরি নিয়মিত করার চিঠি। পাশে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট জাহিদুল ইসলাম। -ফরিদপুর টাইমস।

অস্থায়ী নিয়োগ প্রাপ্তদের চাকরি নিয়মিত করার চিঠি। পাশে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট জাহিদুল ইসলাম। -ফরিদপুর টাইমস।

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফরিদপুর টাইমস:

রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর সারাদেশের মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের চাকরি নিয়মিত করার জন্য কাগজপত্র জমা নেয়া হলেও বঞ্চিত থেকে যাচ্ছেন ফরিদপুরের করোনাযোদ্ধা জাহিদুল ইসলামের। অন্যদের চাকরি নিয়মিত হলেও কেনো তাকে বঞ্চিত করা হচ্ছে সেটিও তিনি জানেন না।

জানা গেছে, করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য সারাদেশে চালু করা বিভিন্ন কোভিড হাসপাতাল ও ল্যাবরেটরীতে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পদে প্রথম পর্যায়ে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্তদের একজন তিনি। তার সাথে সারাদেশে আরো ৬০ জন নিয়োগ পান। গত ১৩ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের আরটি পিসিআর ল্যাবরেটরিতে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পদে যোগ দেন জাহিদুল।

মহামান্য রাষ্ট্রপতি এক আদেশে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ১৮৩ জনকে সৃজিত নতুন পদে নিয়মিত নিয়োগ করার সম্মতি দিলে গত ৯ জুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. বেলাল হোসেন নির্দিষ্ট প্রার্থীদের তথ্য ও কাগজপত্র জমা দিতে বলেন। গত ১৪ ও ১৫ জুন ছিলো ওই কাগজপত্র দাখিলের শেষ দিন।

বিষয়টি জানতে পেরে কাগজপত্র জমা দিতে ঢাকায় যান জাহিদুল। কিন্তু সেখানে তার কাগজপত্র জমা নেয়া হয়নি। কারণ জানতে চাইলে তাকে জানানো হয় যে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন এমবিডিসির পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো: শামিউল ইসলামের স্বাক্ষরিত তালিকায় নাম না থাকায় তার কাগজপত্র জমা নেয়া যাবেনা। এরপর জাহিদুল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. বেলাল হোসেনের সাথে দেখা করলে তাকে একই কথা বলা হয়। জাহিদুল বিষয়টি জানতে এমবিডিসির অধ্যাপক ডা. শামিউল ইসলামের সাথেও দেখা করেন।

এব্যাপারে জানতে এই প্রতিবেদক এমবিডিসির পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো: শামিউল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি প্রথমেই দাবি করেন যে এই প্রক্রিয়ার সাথে তার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। এসময় তার স্বাক্ষরে এমবিডিসি হতে পাঠানো অস্থায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের তালিকার কথা উল্লেখ করলে তিনি বলেন, সিরিয়ালে যেভাবে রয়েছে সেভাবেই তালিকা পাঠিয়েছেন। নিয়োগপত্র ও কাজে যোগদান পত্র থাকলে জাহিদুলকে কাগজপত্রও জমা দিতে বলেন। যদিও সিরিয়ালে নাম না থাকায় সেটি সম্ভব হয়নি।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, ফমেকের আরটি পিসিআর ল্যাবে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পদে তারও পরে আরো দু’জন অস্থায়ী নিয়োগ পান। এরা দু’জনাই চাকরি নিয়মিত করার জন্য কাগজপত্র জমা দিতে পরেছেন। আগামী ১৩ জুলাই তার অস্থায়ী নিয়োগের মেয়াদকাল শেষ হবে। রাষ্ট্রপতির সানুগ্রহ সম্মতি থাকার পরেও কেনো শুধু তিনিই বঞ্চিত হচ্ছেন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে তার মনে। তিনি এব্যাপারে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি কামনা করেছেন।

Please follow and like us
error0
Tweet 20
fb-share-icon20