September 25, 2020

বরকত-রুবেলের গোডাইন হতে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ চালের উৎস সন্ধানে নেমেছে পুলিশ

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফরিদপুর টাইমস:

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকালে ফরিদপুরে শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকতের পরিবহনের গোডাউন হতে উদ্ধার হওয়া খাদ্য অধিদপ্তরের সিলযুক্ত ১২ শ’ বস্তার চালের উৎস সন্ধানে নেমেছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য।

গত ৭ জুন দিবাগত রাতে সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ভাই ইমতিয়াজ হাসান রুবেলসহ তাদের অনুসারী আরো ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় ১২শ’ বস্তায় ওই ৬০ হাজার কেজি চাল সহ ৩ হাজার ইউএস ডলার, ৯৮ হাজার ভারতীয় রূপী ও ২৯ লাখ টাকাসহ সাতটি আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদকদ্রব্য ও একাধিক পাসপোর্ট জব্দ করা হয়

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, বিশেষ ওই অভিযানকালে বরকতের মালিকানাধীন সাউথ লাইনপরিবহনের বাস রাখার শেড হতে এই চালের বস্তা জব্দ করা হয়। বস্তার গায়ে খাদ্য অধিদতপ্তরের সিল রয়েছে। আপদকালীন সময়ে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অধিক মুনাফা হাতিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে সাজ্জাদ হোসেন বরকতের মালিকানাধীন সাউথ লাইন পরিবহনের বাস রাখার শেডের মধ্যে এসব চাল মজুদ করা হয়েছিলো।

তিনি বলেন, বরকত কোন চালের ডিলার নন। তাই তার জিম্মায় এ বিপুল পরিমান চাউল মজুদ রাখা অসৎ উদ্দেশ হাসিলের জন্যই করা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে মামলা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। প্রকৃত রহস্য অবশ্য ইউদঘাটিত হবে।

জানা গেছে, বিপুল পরিমাণ এই সরকারী চালের বস্তা উদ্ধারের ঘটনায় বরকত ও তার ভাই রুবেলকে আসামী করে কোতয়ালী থানার এসআই জাকির হোসেন বাদী হয়ে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫/২৫ বি (২) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন।

এজাহারে বলা হয়, সাজ্জাদ হোসেন বরকত কালো বাজারীর উদ্দেশ্যে দেশের এই আপদকালীন সময় অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ চাউল মজুদ করিয়া ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫ ধারায় অপরাধ করেছেন।

কোতয়ালী থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই বেলাল হোসেন বলেন, বরকত ও রুবেল বর্তমানে অস্ত্র আইনে দায়ের করা একটি মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে আছেন। ওই রিমান্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর চাল উদ্ধারের ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা এ মামলায় তাদের রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে।

থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা এ মামলার তদন্ত করছেন ফরিদপুর কোতয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কবিরুল হক। মামলার এই তদন্তকারী কর্মকর্তা অবশ্য প্রাথমিক তদন্ত বিষয়ে কোন তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন সাংবাদিকদের নিকট।

ফরিদপুর জেলার ভারপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তা হারুন অর রশীদ বলেন, শহরের বদরপুর এলাকায় সাজ্জাদ হোসেন বরকতের মালিকানাধীন সাউথ লাইন পরিবহনের বাস রাখার শেডের মধ্যে ৬০ হাজার কেজি চাউল উদ্ধারের খবর শুনে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। ওই গুদামে ৫০ কেজি করে চটের বস্তা ও পলিথিনের বস্তায় ওই চাল দেখতে পেয়েছেন।

তিনি বলেন, চটের যে বস্তাগুলি পাওয়া গেছে সেসব ২০১৩ সালের সরকারি খাদ্য গুদামের সিল মারা। চালগুলি বাজার থেকে কেনাও হতে পারে বলে তিনি জানান। অবশ্য তবে যে বিপুল পরিমান চাউল উদ্ধার হয়েছে তা কোন ব্যাক্তির পক্ষে মজুদ করা আইন বিরুদ্ধ কাজ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ফরিদপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুম রেজা বলেন, উদ্ধারকৃত ওই চাল নিয়ে তদন্ত করার কোন নির্দেশনা তিনি পাননি। পুলিশ যে সময় চাল গুলি জব্দ করেন ওই সময় জেলার ভারপ্রাপ্তখাদ্য কর্মকর্তা ও প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্ট অফিসার (পিআইও) ওই স্থানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত সাজ্জাদ হোসেন বরকত শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি এসবি কনস্ট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারী ফার্মের মালিক। এছাড়া তিনি জেলাবাস মালিক গ্রুপের সভাপতি হয়েছিলেন। গত ৭ জুন রাতে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হওয়ার পর শহর আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং বাস মালিক গ্রুপের সভাপতির পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

Please follow and like us
error0
Tweet 20
fb-share-icon20