আসলাম ফকির। ছবি- ফরিদপুর টাইমস।

আসলাম ফকির গ্রেফতার

আইন আদালত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর টাইমস:

রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমায় সাহেব চেয়ারম্যান হত্যা মামলায় ফাঁসির দন্ড হতে মওকুফ পাওয়া সেই আসলাম ফকিরকে (৫০) আবারও একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

আজ রোববার (৩১ মে) সকাল ৬টার দিকে যশোরের চৌগাছা কলেজ পাড়ার পাশে একটি ভাড়া বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৮, সিপিসি-২ এর একটি আভিযানিক দল। এরপর তাঁকে ফরিদপুর ক্যাম্পে নিয়ে আসা হয়।

আসলাম ফকির ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মানিকদহ ইউনিয়নের লক্ষিপুর গ্রামের পিতার নাম মৃত শুকুর ফকিরের ছেলে।

র‌্যাব-৮ সিপিসি-২, ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানী অধিনায়ক দেবাশীষ কর্মকার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে একটি হত্যা মামলার পলাতক আসামী হিসেবে আসলাম ফকিরকে যশোরের চৌগাছা থানার কলেজ পাড়া এলাকা হতে রোববার সকালে গ্রেফতার করা হয়। তাকে ভাঙ্গা থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

র‌্যাব-৮ অধিনায়ক দেবাশীষ কর্মকার জানান, জানা গেছে, লক্ষীপুর গ্রামে শহীদ শেখ (৪৮) নামে এক ব্যক্তি খুনের অভিযোগে গত ২২ এপ্রিল আসলাম ফকিরের বিরুদ্ধে আবারও একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয় ভাঙ্গা থানায়। ওই মামলার পর হতেই সে পলাতক ছিলো।

তিনি জানান, গত ২২ এপ্রিলের পর হতে কমপক্ষে পাঁচবার সে স্থান বদল করে। মে মাসের মাঝামাঝি সময় হতে সে নিজেকে একজন প্রবাসী পরিচয় দিয়ে চৌগাছার কলেজ পাড়ার ওই বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে উঠে।

তিনি আরো জানান, আসলাম ফকির বর্ডার অতিক্রম করে ভারতে পালাতে চেয়েছিলো। তবে তার কাছে পাসপোর্ট না থাকায় সেটি সম্ভব হয়নি তার পক্ষে।

প্রসঙ্গত, এর আগে ২০০৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ভাঙ্গার মানিকদহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান একেএম সাহেদ আলী ওরফে সাহেব মিয়া হত্যা মামলায় আসলাম ফকির সহ অপর দুই আসামী তারা মৃধা ও ইমারত আলীকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করেন ফরিদপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালত। আসামীদের আপিলে হাইকোর্টে এ রায় বহাল রাখা হয়।

২০১৪ সালের ১৩ নভেম্বর আসলাম ফকিরের ফাঁসি কার্যকরের দিন ধার্য্য হয়। জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট ও সিবিল সার্জনসহ সকলকে চিঠি দিয়ে প্রস্তুতও থাকতে বলা হয়েছিলো এজন্য। কিন্তু সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও ফাঁসির একদিন আগে অস্বাভাবিক আচরণের কারণে তার ফাঁসি স্থগিত হয়ে যায়।

ওইদিনই দ্বিতীয় দফায় রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেন তিনি। এরপর সাধারণ ক্ষমায় তার ফাঁসি মওকুফ করে ১৪ বছরের সাজা দেয়া হয়। কারাগারে সদাচরণের কারণে সাজা কমিয়ে ১৩ বছর ২দিন কারাভোগের পর ২০১৭ সালের ২৫ আগষ্ট গাজীপুর হাই সিকিউরিটি কারাগার থেকে মুক্তি পান আসলাম ফকির।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি নিজ এলাকায় এসে আবার রাজনীতির মাঠে সক্রিয় হন। এরপর আবার তার হুকুমে আরো একটি হত্যাকান্ড সংগঠিত হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

Related Posts

আইন আদালত খবর

বরকত-রুবেলের ৫ হাজার ৭শ’ বিঘা জমি ও ৫৫টি গাড়ি ক্রোকের নির্দেশ

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফরিদপুর টাইমস:

অর্থ পাচার মামলায় ফরিদপুরের সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ভাই ইমতিয়াজ হাসান রুবেলের ৪৮৭টি তফশিলে থাকা ৫ হাজার ৭০৬ বিঘা জমি, ৮৮টি

হাফেজ শিমুলের পিতা ইসাহাক মিয়া ছেলের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমুলক বিচারের আশায় প্রিয়সন্তানের ছবি দেখাচ্ছেন সাংবাদিকদের। ছবি- ফরিদপুর টাইমস।
আইন আদালত খবর প্রতিবেদন

৩ বছরেও শুরু হয়নি হাফেজ শিমূল হত্যা মামলার বিচার কাজ

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফরিদপুর টাইমস:

ফরিদপুরের
৩০ পারার কোরআনে হাফেজ ও সরকারী রাজেন্দ্র
কলেজের ইংরেজিতে অনার্সের ৩য় বর্ষের মেধাবী
ছাত্র হাফেজ সোলায়মান মিয়া শিমূল (২৫) হত্যা মামলার বিচার তিন বছরেও

বরকত ও রুবেলকে আদালতে নেয়ার পথে তাদের ছবি তোলার পর পুলিশের সামনে হাত উঁচিয়ে এবাবেই হুমকি দেয় রুবেল। -ফরিদপুর টাইমস।
আইন আদালত খবর

অস্ত্র মামলায় বরকত-রুবেলের বিচার শুরু

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফরিদপুর টাইমস:

ফরিদপুরের বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত রাজনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত শহর আওয়ামী লীগের বহিস্কৃত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ভাই ফরিদপুর প্রেসক্লাবের

ফরিদপুর: শহরের ঝিলটুলীতে ঝিলপাড়ের জমিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকাবস্থাতে দোকান ঘর নির্মাণের চেষ্টা চালানো হয়। ছবি- ফরিদপুর টাইমস।
আইন আদালত খবর

ঝিলটুলীর ঝিল পাড়ে আদালদের নিষেধাজ্ঞা থাকাবস্থায় দোকানঘর নির্মাণের চেষ্টা

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফরিদপুর টাইমস:

ফরিদপুরের ঝিলটুলীর ভরাট হয়ে যাওয়া ঝিলপাড়ে আদালদের নিষেধাজ্ঞা থাকা অবস্থাতেই দোকান ঘর নির্মাণের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ এসব