Sun. Feb 23rd, 2020

গাড়ির টায়ার চুরির জন্যই সিরিয়াল কিলারদের হাতে খুন হয় বাস হেলপার সাদ্দাম

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফরিদপুর টাইমস:

ফরিদপুরে গাড়ির নতুন দুটি টায়ার চুরির জন্যই হত্যা করা হয় ঘুমন্ত হেলপারকে। হত্যাকান্ডে অংশ নেয় ৬ জন। যারা সাদ্দামকে হত্যা ছাড়াও সম্প্রতি একজন ইজিবাইক চালককে খুন করে ওই ইজিবাইকটি ছিনতাই করে।

আজ শনিবার বিকেলে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামানএক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আটককৃতরা আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।

গত ২৪ অক্টোবর ভোরে ফরিদপুর-খুলনা রুটে চলাচলকারী নিউ নূপুর পরিবহনের একটি বাসকে ভাঙ্গা উপজেলার চৌরাস্তা এলাকায় পাওয়া যায়। ওই বাসের মধ্যে থেকে সাদ্দাম শেখ (২২) নামে ওই বাসের হেলপারকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিউ নূপুর পরিবহনের মালিক শহরের ঝিলটুলী মহল্লার বাসিন্দা মো. জয়নাল আবেদীন বাদী হয়ে, একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন ফরিদপুর কোতয়ালী থানায়।

সাদ্দাম শেখ ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার বাগাট ইউনিযনের পূর্ব আড়পাড়া গ্রামের আতিয়ার শেখের ছেলে। ফরিদপুরের নূপুর পরিবহনের ওই বাসটি প্রতিদিন সকাল ৬টার দিকে ভাঙ্গা রাস্তার মোড় থেকে খুলনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। রাতে ওই বাসটি ফিরে এসে ফরিদপুরের পৌর বাস টার্মিনালে পার্কিং করা ছিলো। আর ওই বাসেই ঘুমিয়ে ছিল সাদ্দাম।

পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান বলেন, গোয়েন্দা পুলিশ এ মামলার তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে জানতে পারে শহরের পশ্চিম খাবাসপুর এলাকার বাসিন্দা জনি মোল্লা (২৫), একই এলাকার মেহেদী আবু কাওসার (২০) নূপুর পরিবহনের ওই বাসের দুটি নতুন টায়ার রিং চুরির করায় বাধা পেয়ে সাদ্দামকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এ হত্যাকান্ডে তাদের দু’জনের সাথে আরও চারজন অংশ নেয়।

তিনি জানান, ওই হত্যাকান্ডের পরে গত ১৬ নভেম্বর একটি ইজিবাইক ছিনতাই ও চালককে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার জনি মোল্যা ও মেহেদি আবু কাওসার কারাগারে আটক রয়েছে। তারা এ মামলায় সাদ্দামকে শ্বাসরোধ করেে হত্যার বর্ণনা দিয়ে ফরিদপুরের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমীলক জবানবন্দি দিয়েছে।

তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রাম থেকে মামলার অপর দুই আসামী সাজ্জাদ হোসেন মাতুব্বর (২৫) ও ফরিদপুর সদরের কৈজুরি ইউনিয়নের বদরপুর এলাকার আলমগীর হোসেন (৩২) কে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফরিদপুর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুল জব্বার বলেন, গত শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে আলমগীর হোসেনকে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ভাটিয়াপাড়া ওভার ব্রিজ হতে এবং সাজ্জাদকে ফরিদপুর শহরের নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার অপর দুই আসামীকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলে তিনি জানান।