September 24, 2020

মোটর সাইকেলই কাল হলো আসিফের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর টাইমসঃ

মাত্র ১১ বছর বয়স থেকেই মোটরসাইকেল চালাতো আসিফ। ১২ বছর বয়সে বনগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেনিতে ভর্তি হয় সে। ভর্তির শুরু থেকেই স্কুলে বাবার মোটর সাইকেল নিয়ে আসতো।

বিষয়টি শ্রেণি শিক্ষক ও পরে প্রধান শিক্ষকের নজরে আসলে তার পরিবার কে জানানো হয়। একেতো আইন ভঙ্গ তারপর স্কুলের পরিবেশের কথা চিন্তা করে মোটরসাইকেল চালাতে বাধা দেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. মোকসেদুর রহমান।

কিন্তু স্কুল শিক্ষকদের শত বাধা উপেক্ষা করে স্কুলের পাশে একটি বাড়িতে মোটর সাইকেল রেখে স্কুলে আসতো আসিফ। এতে নাকি তার পরিবারের সায় ছিল। যে কারণে আসিফের মোটর সাইকেল চালানো থেকে ফেরানো যাইনি।

গতকাল বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ফরিদপুর সদরের কৈজুরি ইউনিয়নের বনগ্রাম-সমেশপুর সড়কে তার স্কুলের সামনেই ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে আসিফ নিহত হন। এসময় তার মোটর সাইকেলে থাকা ওই স্কুলের আরেক ছাত্র বাবু নিহত হন। ওই ঘটনায় আহত অপর এক ছাত্র ইয়ামিন সামান্য আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান।

বনগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র কৈজুরি ইউনিয়নের সমেশপুর গ্রামের ফারুখ শেখের ছেলে বাবু মোল্লা (১২) ও একই গ্রামের মৃত আব্দুর সরদারের ছেলে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র আসিফ হোসেন (১৩)। আসিফ এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে বড়। বাবু দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে ছোট। এ ঘটনায় আহত মোটরসাইকেলের আরেক আরোহী সমেশপুরের আজিজুল মোল্লার ছেলে ইয়ামিন মোল্লা (১২)। ইয়ামিন ওই স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র।

বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রæয়ারি) দুপুরে স্কুল মাঠে জানাজা শেষে তাদের শমেসপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ও ফরিদপুর সদর আসনের সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনসহ ফরিদপুরের গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ জানাযা নামাজে অংশ গ্রহন করেন । এসময় সাংসদ ওই স্কুল ছাত্র পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। এবং স্কুলে পড়–য়া ছেলেদের বাবা- মা যেন মোটরসাইকেল কিনে না দেয় সে ব্যাপারে নির্দেশনা দেন।

সড়ক দূর্ঘটনায় ছাত্র নিহতের ঘটনায় স্কুলের প্রধান মো. মোকসেদুর রহমান জানান, যখন শিশু আসিফ স্কুলে মোটর সাইকেল নিয়ে আসতো আমি ওর মাকে ডেকে নিষেধ করেছি কিছুতেই শুনলো না। কাজ না হওয়ায় নিরউৎসাহীত করতে একপর্যায়ে স্কুল ক্যাম্পাসে যেন মোটর সাইকেল রাখতে না পারে তাতেও বাধা দিয়েছি।

তিনি বলেন, একেতো শিশু তারপর তিনজন নিয়ে মোটর সাইকেল যোগে বাড়ি ফিরছিল তারা। কোন ভাবেই এটা মেনে নেওয়া যায়না। দু:খ হচ্ছে বার বার নিষেধ করা সত্বেও কথা শুনলো না। কথা শুনলে হয়তো আমাদের এমন পরিস্থিতির সম্মুখিন হওয়া লাগতো না। দুই ছাত্রের অকাল মৃত্যুতে সকল অভিভাবককে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার অনুরোধ জানাই।

এই ঘটনায় কোতয়ালী থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে নিশ্চিত করে থানার উপ-পরিদর্শক নজরুল ইসলাম জানান, ১৮ বছরের আগে চালকের লাইসেন্স পাওয়া যায়না। সেখানে ১৩ বছরের শিশু তিনজনকে নিয়ে মোটর সাইকেল চালিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঘাতক ট্রাকের চালক পলাতক রয়েছে।

ফরিদপুরের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর তুহিন লস্কর এই দূর্ঘটনার বিষয়ে বলেন, আইন ভাঙ্গার প্রতিযোগীতায় আমাদের অধিকাংশ সময় বিপদে ফেলে। যদি সড়কে আইন মানা হতো তবে এভাবে এত প্রাণ অকালে চলে যেতো না। আইনের মানার প্রবনতা যত বাড়বে তত অনাকাঙ্খিত ঘটনার হাত থেকে আমরা রেহাই পাবো।

Please follow and like us
error0
Tweet 20
fb-share-icon20