Thu. Jan 23rd, 2020

ফলোআপ: ফাতেমার সন্দেহভাজন খুনির সিসি ফুটেজ প্রকাশ: খুনি সনাক্তকারীকে পুরস্কারের ঘোষণা

ফরিদপুর প্রতিনিধি: ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ রোববার
ফরিদপুরের চাঞ্চল্যকর বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ১৪ বছরের কিশোরী ফাতেমা নিখোঁজ হওয়ার পূর্ব মুহুর্তের ফুটেজ প্রকাশ করা হয়েছে। আজ রোববার রাত ৮টার দিকে জেলা পুলিশের অফিসিয়াল পেইজে ১১ সেকেন্ড ও ১৯ সেকেন্ডের দু’টি ফুটেজ প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত ওই ফুটেজে দেখা গেছে সন্দেহভাজন ওই খুনি ফাতেমাকে মেলা থেকে বের করে নিয়ে যাচ্ছে। প্রকাশিত ওই ফুটেজে চিহ্নিত সন্দেহভাজন খুনির পরিচয় সনাক্ত করে দিতে পারলে ব্যক্তিগতভাবে তাকে পুরস্কৃত করার ঘোষণা দিয়েছেন মামলার তদন্তদকারী কর্মকর্তা।

ডিস্ট্রিক্ট পুলিশ, ফরিদপুর নামের ফেসবুক পেইজে প্রকাশিত ওই সিসি ক্যামেরা ফুটেজে দেখা গেছে, শহরের রাজেন্দ্র কলেজের মাঠে অনুষ্ঠিতব্য ব্রান্ডিং মেলার মাঠ থেকে বাম হাত ধরে ফাতেমাকে মাঠের বাইরে নিয়ে যাচ্ছে সন্দেহভাজন ওই খুনি।

প্রথম ফুটেজটি গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ০১ মিনিটের। ১৯ সেকেন্ডের ওই ফুটেজে দেখা যায় সন্দেহভাজন ওই খুনি মেলার শিশু কর্ণারের দিকে একটি স্টলের পেছন দিক দিয়ে বের হয়ে বাশের খুঁটির নিকট এসে উকিঝুঁকি দিচ্ছে। সেখানে তার গতিবিধিই ছিলো সন্দেহজনক।

এরপরের ৪টা ৩৫ মিনিটের ধারণকৃত ১১ সেকেন্ডের আরেকটি ফুটেজে দেখা যায়, ফাতেমার হাত ধরে মেলার বাইরে নিয়ে যাচ্ছে সন্দেহভাজন ওই খুনি। ফুটেজে সনাক্ত ওই সন্দেহভাজন খুনির বয়স আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ বছর। তার পরণে অফ হোয়াইট রঙের কালো স্টেপের ফুলহাতা জামা ও একটি ফেড করা জিন্স প্যান্ট। আর ফাতেমার পরণে ছিলো কমলা রঙের একটি পায়জামা ও পরিহিত। এই পায়জামাটি পুলিশ ফাতেমার লাশের সাথে জব্দ করে।

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার আলিমুজ্জামানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, সিসি টিভিতে পাওয়া ওই ফুটেজ মাবাবাকে ফুটেজটি দেখানো হয়েছে। কিন্তু তারা সন্দেহভাজন ওই খুনিকে চিনতে পারেননি। তিনি জানান, তিনদিন আগে ওই সন্দেহভাজন খুনিকে একটি দোকানের সামনে দাড়ানো দেখছেন নিহতের বাবা। ওই দোকান থেকে সে সিগারেট কিনে বলে জানান তিনি।

এব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জাকির হোসেন বলেন, ভিডিও ফুটেজটি সংগ্রহ করে সম্ভাব্য বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়েছি। কিন্তু অপরাধীকে সনাক্ত করতে পারেনি। এজন্য এটি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছাড়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমার চাকরী জীবনে এমন মর্মান্তিক ঘটনা দেখিনি। মেয়েটি বুদ্ধি ও বাক প্রতিবন্ধী। সে একটু খুড়িয়ে খুড়িয়ে হাটতো। সে খুবই মিশুক ছিলো। এলাকার সবার সাথে মিলেমিশে থাকতো। কেউ ডাক দিলে চলে যেতো।

ফেসবুকে সিসি টিভি ফুটেজ ছাড়ার প্রসঙ্গে এসআই জাকির হোসেন বলেন, যদি কেউ সন্দেহভাজন ওই খুনির পরিচয় দিতে পারেন তাহলে তিনি ওই ব্যক্তিকে ব্যক্তিগতভাবে পুরস্কৃত করবেন।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে নিখোঁজ হন বাক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কিশোরী ফাতেমা বেগম (১৪)। এর পরেরদিন শুক্রবার সন্ধার একটু পর সাড়ে ৬টার দিকে রাজেন্দ্র কলেজের পাশে টেলিগ্রাম কার্যালয়ের চত্ত্বর থেকে ফাতেমার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় ফাতেমার মুখ থেতলানো ছিলো। রক্ত জমাট বাঁধা। বিবস্ত্র ফাতেমার গলায় ফাঁস দেয়া ছিলো। ফাতেমাকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। এখনো ফাতেমার লাশের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ফাতেমার বাবার নাম এলাহি শরিফ। তিনি রিক্সা চালানোর পাশাপাশি সোনালী ব্যাংকের এটিএম বুথের গার্ড হিসেবে কাজ করেন। তিন মেয়ের মধ্যে ফাতেমা বড়। ফাতেমা জন্ম থেকেই বুদ্ধি প্রতিবন্ধী (অটিস্টিক)। ওই কিশোরী বাবার সাথে শহরের রাজেন্দ্র কলেজ সংলগ্ন এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করতো।

বুদ্ধি ও বাক প্রতিবন্ধী ফাতেমার এই নৃশংস হত্যাকান্ডের খবরে ফরিদপুরের জনমনে তিব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকেই খুনিদের যেকোন মূল্যে খুঁজে বের করার জোর দাবি উঠেছে।

ফাতেমার সহপাঠীদের বিক্ষোভ: এঘটনায় ফরিদপুর সুইড ফিরোজার রহমান বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্কুলের বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ছাত্রী শিশু ফাতেমা হত্যার দৃষ্টান্তমুলক বিচারের বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে। রোববার দুপুরে নিহত ফাতেমার সহপাঠী, শিক্ষক ও অভিভাবকবৃৃন্দ স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে মিছিল বের করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে স্মারকলিপি দেয়। ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার স্মারকলিপি গ্রহণ করে ফাতেমা হত্যার সাথে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টাস্তমুলক শাস্তি প্রদানের আশ্বাস দেন।

এসময় ফরিদপুর সুইড ফিরোজার রহমান বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্কুলের প্রধান শিক্ষক তানজিম আফরোজ, সহকারী শিক্ষক অহিদা রহমান, এএন হাসান ইমাম, নিহত ফাতেমার মা ববিতা বেগম, পিতা মোঃ ইলাহি শরিফ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন । জেলা প্রশাসক ফাতেমার পরিবারকে আর্থিকসহ সবধরনের সহযোগীতারও আশ্বাস দেন।

বিকেলে একই দাবিতে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে প্রগতিশীল সংগঠন সমুহের ব্যানারে। অধ্যাপক শিপ্রা রায়ের সভাপতিত্বে এসময় বক্তব্য দেন অধ্যাপক আব্দুল মোতালেব, দিলীপ রায়, সাংবাদিক রেজাউল করিম, এমদাদ মিয়া, বলাই পাল, আবরার নাদিম ইতু প্রমুখ।