Thu. Jan 23rd, 2020

ফলোআপ: কিশোরী ফাতেমা হত্যায় জড়িত পৈশাচিক খুনিকে অবিলম্বে গ্রেফতার দাবি

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফরিদপুর টাইমস:
ফরিদপুরে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কিশোরী ফাতেমা বেগম (১৪) হত্যার ঘটনায় তিব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে ফরিদপুরবাসীর মাঝে। নৃশংস, পৈশাচিক ও জঘন্যতম এ হত্যাকান্ডে ক্ষোভের বন্যা বইছে সর্বত্র। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ফাতেমার হত্যায় জড়িত যারাই থাকুক তাদের সনাক্ত করে খুঁজে বের করে গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তির তিব্র দাবি উঠেছে।

শহরের রাজেন্দ্র কলেজ সংলগ্ন এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে বাবার সাথে বসবাস করতো বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ফাতেমা।

গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার পর থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না তাকে। এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার রাতে এবং শুক্রবার সকাল ও দুপুরে শহরের মাইকিংও করা হয়। এরপর নিখোঁজের ২৬ ঘন্টা পর শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাড়ি থেকে আনুমানিক একশ’ গজ দূরে ওই কিশোরীর লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত ফাতেমার পরিচিত ফরিদপুর ডায়বেটিক অ্যাসোসিয়েশন মেডিকেল কলেজের ছাত্র আহমেদ সৌরভ ফাতেমা হত্যাকান্ডে তিব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ফাতেমার মৃতদেহ উদ্ধারের সময় পুলিশের সাথে তিনিও গিয়েছিলেন ঘটনাস্থলে। সেখানে দেখলাম ফাতেমার মুখ থেতলানো, রক্ত জমাট বাঁধা। গলায় ফাঁসি, উলঙ্গ একটা লাশ। কতটা কষ্ট পেয়ে ফাতেমার মৃত্যু হয়েছে সেটি কল্পনাও করতে পারছি না।

সৌরভ বলেন, ফরিদপুর শিশু একাডেমির পাশে নিস্তব্ধ কোয়াটারের ভিতর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। ফাতেমাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সৌরভ বলেন, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী এই মেয়েটিকে এভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করে আমাদের প্রিয় ফরিদপুরকে যারা কলঙ্কিত করলো আল্লাহ্ যেন তাদের কোনদিনও মাফ না করেন। আমরা এর উপযুক্ত দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবি করছি।

এদিকে, শনিবার সন্ধ্যায় গোরস্থান জামে মসজিদে জানাজা শেষে ফাতেমাকে শহরের আলীপুর পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এর আগে তার মৃতদেহের ময়না তদন্ত শেষে লাশটি তার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় শুক্রবার রাতেই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায়। নিহত ফাতেমার বাবা এলাহী শরিফ বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যাক্তিদের আসামি করে শনিবার ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুর কোতয়ালী থানার দ্বিতীয় কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) বেলাল হোসেন বলেন, পুলিশের ধারনা কিশোরীটিকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়ে থাকতে পারে। এজন্য এ হত্যা মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে নেওয়া হয়েছে।

এসআই বেলাল আরও বলেন, তবে এ হত্যা রহস্য উদঘাটনে তৎপর রয়েছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলের আশে পাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে।ফাতেমা হত্যার সাথে এক না একাধিক অপরাধী জড়িত এ বিষয়টিও নিশ্চিত তথ্য জানা যায়নি।

ফাতেমা বেগমের বাবা এলাহি শরিফ রিক্সা চালানোর পাশাপাশি সোনালী ব্যাংকের এটিএন বুথের গার্ড হিসেবে কাজ করেন। তিন মেয়ের মধ্যে ফাতেমা বড়। ফাতেমা জন্ম থেকেই বুদ্ধি প্রতিবন্ধী (অটিস্টিক)। ওই কিশোরী বাবার সাথে শহরের রাজেন্দ্র কলেজ সংলগ্ন এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করতো। ফাতেমা হত্যাকান্ডে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে ফরিদপুরের সর্বত্র।