Sat. Dec 14th, 2019

নগরকান্দায় ঘর হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে প্রতিবন্ধীর পরিবার

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফরিদপুর টাইমস:
ফরিদপুরে প্রভাবশালী ব্যক্তি বিশালাকৃতির সুরম্য অট্রালিকার সামনে শখের ফুলের বাগান তৈরি করতে অবৈধ উপায়ে একরাতে প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক পরিবারের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছেন। চষে সমান করে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে ঘরহারা পরিবারটির নারী, পুরুষ ও শিশুরা খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন। অমানবিক এই ঘটনাটি ঘটেছে নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নের শাকপালদিয়া গ্রামে।
জানা গেছে, শাকপালদিয়া গ্রামে কুমার নদের পাড়ে পাউবোর মালিকানাধীন ৬ শতাংশ জমিতে গত ৩২ বছর যাবৎ বসবাস করছেন মোজহার সরদার (৬৫) নামে একজন প্রতিবন্ধী ভিক্ষুকের পরিবার। তার স্ত্রী, দুই ছেলে, মেয়ে ও নাতিনাতনী রয়েছে। একেবারেই হতদরিদ্র ভূমিহীন এই প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক পরিবার পাউবোর অনুমতি নিয়েই সেখানে ঘরবাড়ি তুলে বসবাস করছিলেন। কিন্তু পাউবোকে না জানিয়েই তাদের ঘরবাড়ি ভেঙে দেয়া হয়েছে। মোজাহার সরদার জানান, দীর্ঘকাল যাবৎ তিনি পরিবার নিয়ে ১৩৮ নং শাকপালদিয়া মৌজার ১৬২৪ নং খতিয়ানের এসএ ৩৬৭২ ও ৩৬৬৭ দাগের ওই ৬ শতাংশ জমিতে বসবাস করছেন। প্রতিবেশী ধনাঢ্য ব্যক্তি মুন্সী আশরাফ আলী তার জমিটি দখলের জন্য বিভিন্ন জায়গায় মিথ্যা অভিযোগ দিতে থাকলে ২০১৫ সালের ১৬ মার্চ পাউবো তাকে সেখানে বসবাসের জন্য লিখিত অনুমতি দেয়। তার অভিযোগ, মুন্সী আশরাফ আলী তাদের উচ্ছেদ করে বাড়ির সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য সেখানে ফুলের বাগান করবেন। এজন্য আর কাউকে কিছু বলা না হলেও তাদের সাথে এমন অন্যায় করা হলো।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওই ঘরবাড়ি ভাঙচুরের কাজ শুরু হয়। এরপর শুক্রবার বিকেলের মধ্যে শ্রমিক নিয়ে ওই জমিতে চাষ দেয়া হয়। ওই শ্রমিকদের জিজ্ঞাসা করলে তারা জানান, আশরাফ মুন্সীর লোকেরা তাদের এই কাজ করতে বলেছেন।
মোজাহার সরদারের স্ত্রী সাকির বেগম (৫৮) বলেন, এলাকার কুদ্দস মেম্বার আমাদের ঘরবাড়ি দিবে বলে একটি স্বাক্ষর নিয়েছিলেন। পরে জানতে পারলাম তিনি আমাদের সরাতেই ওই স্বাক্ষর নিয়েছেন। তিনি বলেন, আমার ছেলে ফারুক ইলেকট্রিক মিস্ত্রির কাজ করে। স্বামী ও ছেলের আয়ে কোনোমতে আমরা চলি। আশপাশে নদীর জমিতে কত বাড়ি আছে অথচ আমাদের ঘরবাড়ি ভেঙে চষে দিলো। ছেলেপুলে নিয়ে এখন আমরা কোথায় যাব বাবা? কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি জিজ্ঞাসা করেন।
এ ব্যাপারে মুন্সী আশরাফ আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি তাদের সেখান থেকে চলে যাওয়ার জন্য এক লাখ টাকাও দিতে চেয়েছি। সিমেন্টর খুঁটি কিনে দিতে চেয়েছি। কিন্তু তারা আমাদের কথা শুনেনি। এখন উপজেলা প্রশাসন তাদের উচ্ছেদ করেছে। এর সাথে আমি জড়িত নই।
তালমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ারা বেগম বলেন, কোনো প্রকার পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই তারা এ কাজ করেছে। স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে তারা আমাকেও বিষয়টি জানায়নি। এখানে একটা রহস্য রয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
নগরকান্দা উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আহসান মাহমুদ রাসেল ঘরবাড়ি উচ্ছেদের সত্যতা নিশ্চিত করে জানানন, নদী পাড়ের সব স্থাপনা অপসারণ করতে সরকারের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। এজন্য এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডে (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ বলেন, বিষয়টিকে অমানবিক উল্লেখ করে বলেন, জমিটি পাউবোর। সেখানে প্রয়োজন হলে পাউবোর পক্ষ থেকে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।