May 25, 2020

কেরোসিন ঢেলে দগ্ধ কলেজ ছাত্রীর মৃত্যু

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফরিদপুর টাইমস:
ফরিদপুর পৌর শহর সংলগ্ন ডিক্রিরচর ইউনিয়নের সিএন্ডবি ঘাট এলাকায় গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুনে দগ্ধ হওয়া কলেজছাত্রী দেলোয়ারা বেগম দিলুর (২৫) মৃত্যু হয়েছে।
চার দিন যাবত মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে শনিবার (৩০ নভেম্বর) দুপুর ৩টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত দিলু ফরিদপুরের উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএসএস দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ও সিএন্ডবি ঘাট এলাকার বেল্লাল শেখের বড় মেয়ে।
নিহতের ছোট ভাই রাকিব হোসেন জানায়, গত চার বছর যাবত তার বোন দিলুর সঙ্গে একই এলাকার শেখ কুদ্দুসের ছেলে আল-আমীন ওরফে স্বাধীন (২৭) নামে এক ছেলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। চার বছরের এই সম্পর্কে প্রেমের নামে স্বাধীন দিলুর কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। এ দিকে, সম্প্রতি স্বাধীনের বিয়ে ঠিক করে তার পরিবার। পরবর্তীকালে একথা জানতে পেরে তার বোন গত মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) সন্ধ্যার দিকে স্বাধীনদের বাড়িতে যায়।
এ সময় কেরোসিন ভর্তি একটি বোতল সঙ্গে নিয়ে স্বাধীনদের বাড়িতে গিয়ে দেলোয়ারা বেগম দিলু তার পরিবারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলে, ‘আমাকে বিয়ে করতে হবে। নইলে গত চার বছর যাবত স্বাধীন যেই টাকা নিয়েছে, সেই টাকা ফেরত দিতে হবে। তা না হলে আমি গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেব।’
দিলুর ভাই রাকিবের অভিযোগ, ওই সময় তাকে নিবৃত্ত না করে উল্টো ঘরের দরজা খুলে স্বাধীনের মা তার বোনের গায়ে আগুন লাগিয়ে দিয়ে আবারও ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়।
পরবর্তীকালে কলেজছাত্রী দিলুর আত্মচিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে বালু দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। এরপর রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকে গুরুতর অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীকালে ওই হাসপাতালে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
দিলুর ভাই রাকিব জানায়, এ ঘটনায় দিলুর তার মা মমতাজ বেগম বাদী হয়ে ঢাকার শাহবাগ থানায় শনিবার (৩০ নভেম্বর) বিকালে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এই মামলায় স্বাধীনসহ তার বাবা বেল্লাল শেখ ও মা মনোয়ারা বেগমকে আসামি করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে নিহত দিলুর পরিবার।
এসব অভিযোগের ব্যাপারে স্বাধীন কিংবা তার পরিবারের বক্তব্য নিতে তাদের বাড়িতে খোঁজ করলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি তাদের মুঠোফোন নম্বরও বন্ধ পাওয়া যায়।
এ দিকে, নিহতের সহপাঠী পাপরি জানান, দিলু ফরিদপুরের বেসরকারি সমরিতা হাসপাতালে চাকরি করার পাশাপাশি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করত। এছাড়া নিহত দিলু ও স্বাধীন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে একই সঙ্গে নাচের প্রোগ্রাম করত। সেখান থেকেই তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।
পুরো ঘটনার ব্যাপারে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই বেলাল হোসেন দৈনিক অধিকারকে জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি। তবে লোকমুখে তিনি ঘটনাটি শুনেছেন বলে স্বীকার করেন। পাশাপাশি এসআই বেলাল হোসেন জানান, এ ব্যাপারে কেউ মামলা করলে আমরা তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেব।
এ দিকে, নিহত দিলুর লাশটি ইতোমধ্যেই ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দিলুর এমন মৃত্যুর ঘটনায় তার সহপাঠীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

Please follow and like us
error0
Tweet 20
fb-share-icon20