Sat. Dec 14th, 2019

লবণ কিনতে উপচে পড়া ভিড়, গুজব ঠেকাতে মাঠে ভ্রাম্যমাণ আদালত

লবণ কিনতে উপচে পড়া ভিড়, গুজব ঠেকাতে মাঠে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ছবি- ফরিদপুর টাইমস।

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফরিদপুর টাইমস:

ফরিদপুরে আজ মঙ্গলবার বিকেল হতেই লবণ কিনতে বাজারে ভিড় লেগে যায় ক্রেতাদের। সন্ধার দিকে এ ভিড় যেনো উপচে পড়তে থাকে। এ অবস্থায় গুজব প্রতিহত করতে ভ্রাম্যমান আদালত মাঠে নামেন। তারা দোকানে দোকানে যেয়ে তদরকি করতে থাকে। বাজারে লবন ক্রেতাদের আশ্বস্ত করেন। ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানের খবর পেয়ে কয়েকজন অসাধু দোকানী এসময় দোকান বন্ধ করে পালিয়ে যায়।

সরেজমিনে শহরের চকবাজারের চাল পট্টির মুদি দোকান সহ পাইকারী দোকানগুলিতে দেখা যায় বিকেল হতেই ক্রেতাদের ভিড় লেগে থাকতে। এসময় প্রধানত তাদেরকে ২ কেজি হতে ১০ কেজি লবণ কিনতেও দেখা যায়। সেখানে ভাই ভাই স্টোরে লবন কিনতে আসা একজন নারী জানান দোকানী তার নিকট হতে এক কেজি লবনের দাম রেখেছেন ৮০ টাকা। তবে পাশের দোকানগুলোতে এসময় মোটা লবণ ২০ টাকা এবং চিকন সাদা লবন কোম্পানীর প্যাকেট করা) ৩৫ টাকা করে বিক্রি হতে দেখা যায়। প্রত্যেক ক্রেতার হাতেই এসময় লবনের বিশেষ ব্যাগ দেখা যায়।

এদিকে, খবর পেয়ে সেখানে তাৎক্ষণিক অভিযান চালায় ভ্রাম্যমান আদালত। এতে নেতৃত্ব দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আসলাম আলী। এসময় বাজার কর্মকর্তা শাহাতাৎ হোসেন সহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। তারা দোকানে দোকানে যেয়ে লবনের দাম জিজ্ঞাসা করতে থাকেন। এর আগেই খবর পেয়ে ভাই ভাই স্টোরের দোকানী সহ কয়েকজন তাদের দোকান বন্ধ করে পালিয়ে যায়।

এসময় ভ্রাম্যমাণ আদালত কয়েকজন পাইকারের আড়তে যেয়ে ক্রেতাদের ভিড় দেখতে পান। সেখানে তারা ক্রেতাদের আশ্বস্ত করেন এবং বিক্রেতাদের নিকট পরিস্থিতি জানতে চান।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আসলাম আলী জানান, বিক্রেতাদের বলেছি যেনো তারা ক্রেতাদের মাঝে কোনরকম হুজুগ তৈরি হয় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়। আমরা দোকানে দোকানে যেয়ে তদারকি করেছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। কেউ যেনো হুজুগে না পড়েন।

এদিকে, ভ্রাম্যমান আদালতের উপস্থিতিতেই সেখানে হাজির হন চকবাজার বনিক সমিতির সভাপতি গোবিন্দ সাহা এবং সাধারণ সম্পাদক সামচুল হক চৌধুরী। এসময় উপস্থিত ক্রেতাদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ব্যবসায়ী নেতা গোবিন্দ সাহা বলেন, বাজারে লবনের দাম বাড়েনি। কেউ অস্থির হবেন না।

রিপোর্ট লেখার সময়বাজারে পুলিশের অভিযান চলছিলো। থানার মোড়ে একটি ভ্যানে করে লবন পরিবহনের লবনভর্তি ভ্যানটি আটক করা হয়। তবে ওই লবনের কোন মালিক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।