Sun. Feb 23rd, 2020

কিশোর গ্যাংয়ের হাতে খুন হন রেজা

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফরিদপুর টাইমসঃ
ফরিদপুরে এক সংঘবদ্ধ কিশোর গ্যাংয়ের সন্ধান মিলেছে যাদের হাতে পরিকল্পিতভাবে খুন হয় আরেক তরুণ। গত ৯ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর শহরের ডিআইবি বটতলা এলাকার একটি পুকুর থেকে রেজা মোল্লা (২১) নামে ওই তরুণের লাশ উদ্ধার করা হয়।

ওই হত্যাকাণ্ডের পর হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের নিজেদের মধ্যে বিবাদের জের ধরে বেরিয়ে আসে এই ভয়ংকর কিশোর গ্যাংয়ের কাহিনী। পুলিশ এই গ্যাংয়ের তিন কিশোর ও এক তরুণকে আটক করেছে। এদের একজন আদালতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দী দিয়েছে।

পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, এক তরুণসহ একদল কিশোর পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ওই তরুণকে। ওই গ্যাংয়ের একজন সদস্যকে থাপ্পড় মারার প্রতিশোধ হিসেবে হত্যা করা হয় রেজাকে।

ফরিদপুরের কোতয়ালী থানার পুলিশ এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত এক তরুণসহ তিন কিশোরকে গ্রেফতার করেছে। এর মধ্যে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর হত্যার দায় স্বীকার করে গত সোমবার বিকেলে ফরিদপুরের এক নম্বর আমলি আদালতে অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ওসমান গণির কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। অবশ্য ১৮ বছরের নিচে হওয়ায় এসব কিশোরের নাম প্রকাশ করেনি পুলিশ।

ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই বেলাল হোসেন মঙ্গলবার এ ব্যাপারে এক প্রেস ব্রিফিং করেন। এসময় লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, রেজা মোল্লা শহরের কমলাপুর বটতলা এলাকার মৃত আব্দুর সাত্তার মোল্লার ছেলে যিনি বটতলা (রেজা) এলাকায় জনৈক সাখাওয়াত হোসেনের হোটেলে কাজ করতেন। গত ৮ সেপ্টেম্বর সকালে রেজা বাসা থেকে বের হয়ে রাতে আর বাড়ি ফিরেনি। পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার দিকে দক্ষিণ কমলাপুরে তসলিম বিশ্বাসের পুকুর পাড়ে রেজার পরনের কাপড়-চোপড় পাওয়া যায়। এরপর ওই পুকুরে তল্লাশী করে রেজার লাশ ডুবন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে পরিবারের লোকজন ধারণা করেন যে গোসল করতে গিয়ে পা পিছলে গভীর পানিতে পরে ডুবে মারা গেছেন রেজা। তারা কোনো রকম আইনী পদক্ষেপ না নিয়ে ধর্মীয় রীতিতে রেজার লাশের দাফন করেন।

এসআই বেলাল হোসেন জানান, এরপর ওই কিশোর গ্যাংয়ের নিজেদের মধ্যে কোন্দল হলে কথায় কথায় রেজা হত্যাকান্ডের বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়। এরপর এর সূত্র ধরে পুলিশ গত রোববারর রেজার প্রতিবেশী ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেফতার করে। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী শহরের পূর্ব খাবাসপুর, বায়তুল আমান ও ফরিদপুর সদরের ধোপাডাঙ্গা এলাকা হতে ১৬ ও ১৭ বছর বয়সী দুই কিশোর এবং ডিআইবি বটতলার এলাকার বাসিন্দা মো: সাকিব শেখ (১৯) নামে এক তরুণকে গ্রেফতার করা হয়।

তিনি জানান, রেজা নিজেও ওই গ্যাংয়ের সাথে উঠাবসা করতো। সে তাদের সাথে মিলেমিশে মাদক সেবন করতো। মাদকের আড্ডায় সে ওই গ্যাংয়ের একজনকে থাপ্পড় মারে। এর প্রতিশোধ হিসেবে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়।

এ ব্যাপারে গত রোববার রাতে নিহত রেজার বড় ভাই মুরাদ মোল্লা বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলার গ্রেফতার হওয়া ওই চার কিশোর ও তরুণ ছাড়াও ১৭ বছর বয়সী আরেক কিশোরকে আসামি করা হয়েছে।

এ হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফরিদপুর কোতয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম বলেন, এ হত্যা মামলার আসামি ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর গত সোমবার বিকেলে ফরিদপুরের এক নম্বর আমলি আদালতে অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম ওসমান গণির কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

তিনি বলেন, জবানবন্দী দেয়ার পর ওই কিশোরকে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়া গ্রেফতার হওয়া দুই কিশোর ও এক তরুণের রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে। এছাড়া নিহত রেজার লাশ তুলে ময়নাতদন্তের জন্য আদালতে আবেদন জানানো হবে।