Sat. Dec 14th, 2019

একজন নির্ভীক সাংবাদিক হিসেবে চির স্মরণে থাকবেন আহম্মদ ফিরোজ

বিশেষ প্রতিবেদক, ফরিদপুর টাইমসঃ
সৎ ও সাহসী সাংবাদিক, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক আহম্মেদ ফিরোজ (৬৩) কে শ্রদ্ধা আর ভালবাসার মধ্য দিয়ে দাফন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আজ বুধবার দুপুরে তাঁকে আলিপুর গোরস্থানে দাফন করা হয়।

সাংবাদিক আহম্মদ ফিরোজের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ফরিদপুরের একজন জনপ্রিয় ও নির্ভীক সাংবাদিকের জীবনাবসান হলো। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সদা সোচ্চার একটি প্রতিবাদী কন্ঠস্বর থেমে গেলো চিরতরে। ফরিদপুরবাসী তাঁর এই অবদান গভীর কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করলো তাঁর জানাযার পূর্বে।

এসময় বক্তাগণ ফরিদপুরের প্রবীণ এই সাংবাদিকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, তাঁর মৃত্যুতে ফরিদপুরের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেলো। ফরিদপুরের মজলুম জনতা তাদের প্রতিবাদের একটি বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর হারিয়ে ফেললো।

তারা বলেন, সাংবাদিক আহম্মদ ফিরোজ বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার একজন জ্বলন্ত প্রতিচ্ছবি ছিলেন। সংবাদ প্রকাশের ব্যাপারে তিনি কোনপ্রকার পক্ষপাতিত্ব করতেন না। কোন রক্তচক্ষু কিংবা প্রলোভন তাকে সত্য প্রকাশ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি।

সাংবাদিক আহম্মদ ফিরোজের মতো এমন একজন সাংবাদিকের মৃত্যুতে ফরিদপুরবাসীর মাঝে বিরাট শূণ্যতা সৃষ্টি হলো উল্লেখ করে তারা বলেন, কর্মময় সারাটি জীবন তিনি মানুষের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করে গেছেন। ষাটোর্দ্ধ বয়সেও তিনি ক্যামেরা হাতে নিয়ে খবরের সন্ধানে পথে পথে ঘুড়ে বেরিয়েছেন। তিনি ছিলেন একজন সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতার প্রতিবিম্ব। আমরা তাঁকে আমৃত্যু অনুভব করবো।

সাংবাদিক আহম্মদ ফিরোজ শহরের ঝিলটুলীতে অবস্থিত আহম্মদ লজে বসবাস করতেন। গত মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) সকাল থেকে তিনি বুকে ব্যাথা অনুভব করছিলেন। দুপুরের দিকে ব্যাথা তিব্রতর হলে তাঁকে চিকিৎসকের কাছে নেয়া হয়। এরপর চিকিৎসক তাকে হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন।

পারিবারীক সূত্রে জানা যায়, দুপুর আড়াইটার দিকে তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে তাকে সিসি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। এরপর বিকেল চারটার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে শহরে শোকের ছায়া নেমে আসে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর বন্ধু ও ভক্ত সমর্থকগণ শোক জানাতে থাকেন।

হাসপাতাল থেকে তাঁর মৃতদেহ প্রথমে শহরের হাড়কান্দিতে তাদের পুরনো বাড়িতে নেয়া হয়। সেখানে গোসল ও কাফন পরানোর পর তাকে ঝিলটুলীস্থ বাসভবনে আনা হয় সন্ধা সাড়ে ৭টার দিকে। এরপর রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাকে ফরিদপুর ডায়বেটিক হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়।

বুধবার বেলা ১২টার দিকে সাংবাদিক আহম্মদ ফিরোজকে হিমঘর থেকে বের করে আহম্মদ লজে আনা হয়। এরপর জোহরের আযানের পর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় অম্বিকা ময়দানে।

বাদ জোহর অম্বিকা ময়দানে তাঁর জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, ফরিদপুর মুসলিম মিশনের সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুস সামাদ, ডা. মোস্তাফিজুর রহমান শামীম, সাংবাদিক আহম্মদ ফিরোজের ভাইপো মাসুদ প্রমুখ।

পরে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন স্বরুপ পুস্পমাল্য অর্পণ করেন সাবেক মন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ ও ফরিদপুর প্রেসক্লাব। এসময় ফরিদপুরের বিএমএর সভাপতি ডা. চৌধুরী জাহাঙ্গির হোসেন টিটু, আরোগ্য সদনের এমডি আওলাদ হোসেন বাবর, বিশ্ব জাকের মঞ্জিল কর্মী গ্রুপের ফরিদপুর আঞ্চলিক প্রধান কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী,বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েল, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ইমতিয়াজ হাসান রুবেল সহ অগণিত মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে আলীপুরে গোরস্থানে দাফন করা হয়।

সাংবাদিক আহম্মদ ফিরোজ ১৯৫৬ সালে শহরের ঝিলটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দৈনিক মিল্লাত ও দৈনিক দিনকাল পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। একজন সৎ ও সাহসী সাংবাদিক হিসেবে তিনি ফরিদপুরের সর্বমহলে সমাদৃত ছিলেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি অপোষহীন ছিলেন।

তিনি অকৃতদার ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে যান। তার পিতা মরহুম ফজলুল করিম একজন কৃষি কর্মকর্তা ছিলেন। ৯ ভাই ও ২ বোনের মাঝে তিনি সেঝো সন্তান ছিলেন। তিনি ফরিদপুরে জেলা বিএনপির সদ্য বিলুপ্ত কমিটির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। তিনি ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন।

প্রবীণ সাংবাদিক আহম্মদ ফিরোজের মৃত্যৃতে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা জহিরুল হক শাহজাদা মিয়া, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোদাররেস আলী ঈসা, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রশিদুল ইসলাম লিটন, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন সম্পাদক চৌধুরী নায়াব ইউসুফ, সাবেক যুবদল নেতা মাহবুবুল হাসান পিংকু, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আফজাল হোসেন খান পলাশ, জেলা যুবদলের সভাপতি রাজিব হোসেন, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গির হোসেন, মহানগর যুবদলের সভাপতি বেনজির আহমেদ তাবরীজ, সাধারণ সম্পাদক রেজোয়ান বিশ্বাস তরুণ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আদনান হোসেন অনু, সাধারণ সম্পাদক তানজিমুল হাসান কায়েস, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি শাহরিয়ার শিথিল, সাধারণ সম্পাদক রাকিব হোসেন সহ ফরিদপুরে কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।