Sat. Dec 14th, 2019

প্রতারণাই রুবেলের পেশা

আহম্মদ ফিরোজ, ফরিদপুর টাইমসঃ
স্কুলের গণ্ডি পেরোতে পারেননি রুবেল মাতুব্বর। কিন্তু কথাবার্তায় বেশ চালু। যখন তিনি গ্রাহকদের ফোন করে বলেন, ‘আমি বিকাশ অফিস থেকে বলছি’ তখন অনেকের পক্ষেই বুঝে ওঠা দায় যে এটি কোনো প্রতারকের কণ্ঠ! তাই এলাকার মানুষ ‘প্রতারক বিকাশ রুবেল’ নামেই চেনেন।

রুবেল ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মিয়াপাড়া গ্রামের দেলোয়ার মাতুব্বরের ছেলে। বাবা রাজমিস্ত্রী। মায়ের সাথে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে।

ফরিদপুর শহরে রুবেলের মা তার দু’টি সন্তানকে নিয়ে আসেন কাজের আশায়। বাসাবাড়িতে কাজ করে ছেলেদের বড় করেন। এরমধ্যে বড় ছেলেটি রাজেন্দ্র কলেজ থেকে হিসাব বিজ্ঞানে অনার্স পাশ করে। তবে ছোট ছেলে রুবেলের আর পড়াশুনা হয়নি। জীবিকার তাগিদে কখনো রিকশা চালিয়েছে, কখনো বাদাম বেঁচেছে সে। ছোটবেলা থেকেই মানুষের ফুট ফরমায়েশ খেটে জীবনের অন্ধকার দিকগুলো দেখতে শিখেছেন রুবেল। তাই প্রতারণাই পেশা হিসেবে বেছে নেন তিনি।

বছর পাঁচেকেই প্রতারণার কৌশলে রুবেল এখন কোটি টাকার মালিক। শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকলেও এরইমধ্যে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের নেতৃত্ব দেন তিনি। মানুষকে নানা প্রলোভন দেখিয়ে লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়াই তাদের টার্গেট।

রুবেলের এ প্রতারণার কৌশল বেশি দিন অজানা থাকেনি। তিন মাসের ব্যবধানে র‌্যাবের হাতে তিনি দুবার আটক হয়েছেন। অবশ্য প্রথমবার জামিন নিয়ে বেরিয়ে এসে আবারো শুরু করেন প্রতারণা।
ফের বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করেছে র‌্যাব। এ সময় তার কাছ থেকে সাতটি মোবাইল, ৫২টি সিম কার্ড ও ১৬টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব-৮, সিপিসি-২ এর কোম্পানি কমান্ডার অধিনায়ক মেজর আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান জানান, বিকাশ প্রতারকদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ভাঙ্গা উপজেলা। এখান থেকেই ঢাকা, নোয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলার প্রতারকরা টাকা ক্যাশ আউট করেন। এ কাজে এখানে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র গড়ে উঠেছে। আটক রুবেল এমন একটি দলের প্রধান।

মেজর আব্দুল্লাহ আল মঈন জানান, বিকাশ প্রতারক চক্রের সঙ্গে সিম বিক্রেতারা রয়েছে। তারা পরস্পর যোগসাজশে ভুয়া নামে সিম কার্ড রেজিস্ট্রেশন করেন। এরপর ওই সিম কার্ড ব্যবহার করে এজেন্টের মাধ্যমে বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলেন। পরে প্রতারকরা বিকাশ এজেন্টদের লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করেন। এরপর মানুষের কাছে বিকাশ হেড অফিসের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে পিন কোড জেনে নিয়ে টাকা তুলে নেন।

র‌্যাব কমান্ডার আরো জানান, তিন মাসে মিয়াপাড়া গ্রাম থেকে ১৫ জন বিকাশ প্রতারককে আটক করা হয়েছে। এখনো অনেক প্রতারক রয়েছে। তাদেরও আটক করা হবে।