Sun. Dec 15th, 2019

দুদকের মামলায় পাংশার জুনিয়র অডিটরের সাজা

দণ্ডিত শামসুল হক রাজবাড়ী পৌরসভার সজনকান্দা মহল্লার বাসিন্দা। তিনি রাজবাড়ীর পাংশার হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে ১৯৯৭ সালের ৩ এপ্রিল থেকে ২০০২ সালের ৩ মার্চ পর্যন্ত জুনিয়র অডিটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফরিদপুর টাইমসঃ
ফরিদপুরে দুদকের মামলায় হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের জুনিয়র অডিটর মো. শামসুল হককে সাজা দিয়েছে আদালত। এর মধ্যে মামলার পাঁচটি ধারায় বিভিন্ন মেয়াদে সর্বমোট ১৮ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। একই সঙ্গে নয় লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ১৩ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

বুধবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে ফরিদপুর বিশেষ জজ আদালতে জজ মো. মতিয়ার রহমান এ রায় দেন। রায় দেয়ার সময় মো. শামসুল হক আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

দুদুকের মামলার আইনজীবী মো. মজিববর রহমান জানান, আদালত সাবেক জুনিয়র অডিটর মো. শামসুল হককে দোষী সাব্যস্ত করে সরকারি কর্মচারী হয়ে অর্থ আত্মসাতের দায়ে পাঁচ বছর স্শ্রম কারাদণ্ড দেন। এছাড়া আট লাখ ৯ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরো ছয় মাসের বিনাশ্রম করাদণ্ড দেয়া হয়। একই মামলায় জালিয়াতির দায়ে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো তিন মাসের বিনাশ্রম কারদণ্ড দেয়া হয়। ভুয়া হিসাব তৈরির দায়ে তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো এক মাসের বিনাশ্রম করাদণ্ড দেয়া হয়।

এছাড়া দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় পাঁচ বছরের স্শ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।

তিনি আরো জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি একসঙ্গে সব সাজা ভোগ করতে পারবেন। সেই হিসেবে তাকে পাঁচ বছর স্শ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড পরিশোধ না করলে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারদণ্ড ভোগ করতে হবে।

মামলার তথ্যানুযায়ী, পাংশায় কর্মরত থাকার সময় শামসুল হক বিভিন্ন সরকারি অফিসের কর্মচারীদের নামে ভুয়া জিপিএস’র (জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড) অগ্রিম বিল তৈরি করেন। এছাড়া মঞ্জুরিপত্র প্রস্তুত করে ওই কার্যালয় থেকে বিল পাশ করিয়ে আট লাখ ৯ হাজার টাকা উত্তরা ব্যাংক রাজবাড়ী শাখায় নিজের হিসাবে স্থানান্তর করেন। পরে ওই বিল ও মঞ্জুরিপত্র নষ্ট করেন তিনি।

দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ কমিশন (দুদক) সমন্বিত ফরিদপুর কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক গাজী মো. শামসুল আরেফিন বিষয়টি তদন্ত করেন। তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে ২০১৬ সালের ৯ আগস্ট পাংশা থানায় নিজে বাদী হয়ে মো. শামসুল হককে আসামি করে একটি মামলা করেন। এরপর তিনি নিজেই মামলাটির তদন্ত করে ২০১৭ সালের ২১ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।