Sat. Dec 14th, 2019

কৃষি জমিতে ইট ভাটা, ধোঁয়ায়-ধুলায় পরিবেশ দূষণ

কৃষি জমিতে এভাবে ইট ভাটা করার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

তারপরেও কিভাবে মিলছে এসব ইট ভাটার অনুমোদন?

আহম্মদ ফিরোজ, ফরিদপুর টাইমসঃ
ফরিদপুর শহর ঘেঁষে গ্রাম এলাকার কৃষি জমিতে একের পর এক গড়ে উঠছে ইটের ভাটা। পদ্মা নদী থেকে সারাবছর ধরে অবৈধভাবে উত্তোলন করা বালি ও কৃষি জমির টপ সয়েলের সহজলভ্যতার কারণে এরইমধ্যে শহর সংলগ্ন ডিগ্রিরচর ইউনিয়নের সিএন্ডবি ঘাট এলাকায় গড়ে উঠেছে এক ডজনেরও বেশি ইটের ভাটা। এরমধ্যে একেবারেই গ্রামীণ এলাকা আইজদ্দিন মাতুব্বরের ডাঙ্গিতে মাত্র দু’শ গজের মধ্যে গড়ে তোলা হয়েছে তিনটি ইট ভাটা।

এভাবে কৃষি জমি ধ্বংস করে একের পর এক ইটের ভাটা গড়ে ওঠায় কমে যাচ্ছে ফসলী জমি। গ্রামীণ সড়কে দিনরাত চলছে এসব ভাটার ইট, বালি ও খড়ির ট্রাক। সেইসাথে নিরিবিলি গ্রামীণ পরিবেশগুলো বাইরে থেকে আসা শ্রমিকদের কারণে ঘনবসতিপূর্ণ ঘিঞ্জি এলাকায় পরিণত হচ্ছে। সেখানে বসবাসরতদের জন্য শিক্ষা ও চিকিৎসার সুব্যবস্থা হচ্ছে না। ইট ভাটার চিমনির ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টসহ নানা ধরণের রোগ বালাই ছড়াচ্ছে। ফলে ধোঁয়া ও ধুলায় দূষণে বিষাক্ত হচ্ছে পরিবেশ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, আইজদ্দিন মাতুব্বরের ডাঙ্গিতে কৃষি জমি ধ্বংস করে পাশাপাশি তিনটি ইটের ভাটা। এর মধ্যে চাঁন মিয়া ও লিয়াকত মাতুব্বরের দু’টো পুরনো ভাটার পাশাপাশি আরশাদ ব্যাপারী মালিকানাধীন এবি ব্রিক নামে নতুন আরো একটি ইটের ভাটা স্থাপন করা হয়েছে।

আইজদ্দিন মাতুব্বরের ডাঙ্গির স্থানীয় বাসিন্দা নিরু ফকির অভিযোগ করেন, অনৈতিক পন্থা অবলম্বন করে এসব ভাটা স্থাপনের জন্য পরিবেশের ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। ইট ভাটার ধুলাবালি ও বিষাক্ত ধোঁয়ায় এলাকার পরিবেশ বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে। কৃষি জমিতে এভাবে ইট ভাটা করার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

সিদ্দিক মিয়া নামের আরেকজন গ্রামবাসী বলেন, এসব ইটভাটায় কাজ করার জন্য বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকে শ্রমিকেরা এসেছে। তারা ভাটায় ক্লাবঘর করেছে। সেখানে নারীদের সাথে অশালীন আচরণ করা হয়। এরইমধ্যে যশোরের এক শ্রমিক স্থানীয় এক নারীকে ভুলিয়ে ভালিয়ে ভাগিয়ে নিয়ে গেছে। এসব কারণে এলাকায় সামাজিক অবস্থানের অবনতি হচ্ছে। আমরা খুব বিপদে আছি।

শেখ শাহেদ আলী নামে একজন গ্রামবাসী বলেন, এই এলাকার তিনটি ইট ভাটায় প্রচুর ট্রাক আসা-যাওয়া করে। এইসব ট্রাকের ধুলাবালিতে পরিবেশ দুষণ হচ্ছে। সড়কগুলো নষ্ট হচ্ছে। ভাটার কালো ধোয়াঁয় গাছপালা বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তর সরেজমিনে যাচাই করলে কোনক্রমেই কৃষি জমিতে এসব ভাটা করার অনুমতি দিতে পারতো না। তাদের দাবি, অতিদ্রুত এসব ইটভাটা অপসারণ করা হোক।

এব্যাপারে এবিবি ভাটার মালিক আরশাদ ব্যাপারী বলেন, আমাদের দুই পাশে দু’টি ভাটা থাকায় আমার জমিতে ফসল হচ্ছিলো। এলাকার লোকেরা সেখানে গরু ছাগল চড়াতো। একারণে আমিও নিরুপায় হয়ে সবখান থেকে অনুমতি নিয়েই এই ইটভাটা দিয়েছি।

পরিবেশ অধিদপ্তরের ফরিদপুর জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ড. মোঃ লুৎফর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কৃষি জমি ও জনবসতিপূর্ণ জমিতে ইট ভাটার জন্য সাধারণত ছাড়পত্র দেয়ার নিয়ম নেই। তবে অনেক ক্ষেত্রে স্ব-স্ব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার অনুমতি সাপেক্ষে কিছু ছাড়পত্র দেয়া হয়ে থাকে। তবে বাস্তবে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কোন ইটভাটাকে অনুমতি দেয়ার অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।