Sat. Dec 14th, 2019

ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে অলট্রাসনোগ্রাম বন্ধ দেয়না এক্সরে রিপোর্ট

জেনারেল হাসপাতালে যেখানে দেড়শ’ টাকায় এক্সরে রিপোর্ট পাওয়া যেতো সেখানে বাইরে থেকে ৪শ’ থেকে ৫শ’ এবং ২শ’ টাকার বড় ফিল্মের এক্সরে করতে বাইরে থেকে লাগে ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকা। এছাড়া রোগীদের আলট্রাসনোগ্রাম করতে সম্পূর্ণ পেট ২শ’ ২০টাকা ও অর্ধেক পেট ১শ’ ১০ টাকা লাগে। সেখানে বাইরে এই ফি ৬শ’ টাকা।

আহম্মদ ফিরোজ, ফরিদপুর টাইমসঃ
ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের রেডিওলজিস্ট নেই সাড়ে তিন মাস যাবত। গত জুন মাসে ওই পদে থাকা একজন জুনিয়র কনসালটেন্ট পদোন্নতি পেয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বদলী হয়ে গেছেন। এরপর জেনারেল হাসপাতালে রেডিওলজিস্ট নিয়োগ পাননি।

একারণে গত সাড়ে তিনমাস যাবত এই হাসপাতালে কোন রোগীর আল্ট্রাসনোগ্রাম হচ্ছে না। একইসাথে রোগীদের এক্সরে রিপোর্টও মিলছে না। সেবা নিতে এসে বিড়ম্বনার শিকার রোগীর অভিযোগ, প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর সুবিধার্থেই এ দশা। তাদেরকে বাইরে থেকে অলট্রাসনোগ্রাম ও এক্সরে রিপোর্ট করানোর জন্য বেসরকারি মোটা অংকের গুনতে হচ্ছে। অপচয় হচ্ছে অনেক সময়।

জানা গেছে, ফরিদপুরের এই জেনারেল হাসপাতালে রেডিওলজিস্ট জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মাকসুদা খানম গত ২৪ জুন সিনিয়র কনসালটেন্ট পদে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বদলি হন। এরপর থেকেই জেনারেল হাসপাতালের রেডিওলজিস্ট পদটি শুণ্য রয়েছে।

একজন রেডিওলজিস্ট হাসপাতালের রোগীদের ডায়গনস্টিক টেস্ট ও এক্সরে রিপোর্ট তৈরি করেন। বর্তমানে এই হাসপাতালে কারো ডায়াগনস্টিক হচ্ছে না। এছাড়া এক্সরে করার পর রোগীদের রিপোর্টও দেয়া হচ্ছে না। তাদের শুধু এক্সরে ফ্লিমটি ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের এই এক্সরে বিভাগটি একটি ইন্সটিটিউট হিসেবে চালু হয় ১৯৩৯ সালে। বর্তমানে এই কক্ষটির সামনে বিজ্ঞপ্তি ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে যেখানে লেখা রয়েছে, ‘এক্সরে রিপোর্ট হয় না, শুধুমাত্র ফ্লিম দেওয়া হয়’। আর এই এক্সরে কক্ষের পাশেই আলট্রাসনোগ্রাম কক্ষ। এই ঘরটি এখন তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।

হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট রেডিওলজি) মো. শাহজাহান মিয়া জানান, এ হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৪৫টি এক্সরে এবং ২৫ থেকে ৩০টি আলট্রাসনোগ্রাম করা হতো।

জেনারেল হাসপাতালে যেখানে দেড়শ’ টাকায় এক্সরে রিপোর্ট পাওয়া যেতো সেখানে বাইরে থেকে ৪শ’ থেকে ৫শ’ এবং ২শ’ টাকার বড় ফিল্মের এক্সরে করতে বাইরে থেকে লাগে ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকা। এছাড়া রোগীদের আলট্রাসনোগ্রাম করতে সম্পূর্ণ পেট ২শ’ ২০টাকা ও অর্ধেক পেট ১শ’ ১০ টাকা লাগে। সেখানে বাইরে এই ফি ৬শ’ টাকা।

এ ব্যাপারে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক জেলার সিভিল সার্জন ডা. এনামুল হক বলেন, প্রতিমাসেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে রেডিওলজিস্ট চেয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু এখনো কাউকে নিয়োগ দেয়া হয়নি।

তিনি জানান, সারাদেশে গত দুই মাস ধরে ডেঙ্গু জ্বরজনিত রোগের প্রাদূর্ভাব হওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের ছুটিসহ সব ধরণের বদলি স্থগিত করা হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যেই রেডিওলজিস্ট পদে নতুন করে নিয়োগ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।