Sat. Dec 14th, 2019

‘জমি আছে ঘর নাই’ প্রকল্প: বরাদ্দ পেলেও ঘর পায়নি ৪৭ গৃহহীন পরিবার

“জমি আছে কিন্তু ঘর নেই এমন দরিদ্রদের মাথা গোঁজার মতো একটি ঠিকানা করে দিতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ প্রকল্পটি চালু করেন। তবে মাঠ পর্যায়ে দুর্নীতির কারণে অনেকে এই সু্বিধা থেকে বঞ্চিত হন বলে অভিযোগ।”

স্বামীহারা হাফেজা বেগম সন্তানদের নিয়ে এই পাঠখড়ির ছাপড়া ঘরেই থাকেন। বরাদ্দপত্র পেলেও তিনি ঘর পাননি। ছবি- ফরিদপুর টাইমস।

স্বামীহারা হাফেজা বেগম সন্তানদের নিয়ে এই পাঠখড়ির ছাপড়া ঘরেই থাকেন। বরাদ্দপত্র পেলেও তিনি ঘর পাননি। ছবি- ফরিদপুর টাইমস।

নিজস্ব সংবাদদাতা:

প্রধানমন্ত্রীর ‘জমি আছে ঘর নাই’ আশ্রয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ পাওয়ার পরেও ঘর পায়নি ফরিদপুরের জেলা সদরের বিভিন্ন ইউনিয়নের ৪৭টি পরিবার। ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে তাদেরকে ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে পত্র মারফত নিশ্চিত করা হয়। কিন্তু অদ্যাবধি তারা সে ঘর পাননি। এ অবস্থায় তারা জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় নিজ জমিতে ঘর তৈরির জন্য বরাদ্দপ্রাপ্ত গৃহহীনদের ১ লাখ টাকা করে প্রদান করা হয়। জেলা সদরের বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রায় চার শতাধিক গৃহহীন পরিবারকে এই বরাদ্দ দেয়া হয়। ওই বছরের ২ নভেম্বর আশ্রয়ন প্রকল্প-২ হতে স্মারক নং- ০৩.৭০৩.০১৮.০০.০০.১৫৩৬. ২০১৭-২৪৮৫ নম্বর পত্রে সংশ্লিষ্ট চিঠির মাধ্যমে তাদেরকে বরাদ্দের বিষয়টি জানিয়ে দেয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, একটি চক্র দুর্নীতি করে এসব নাম বাদ দিয়ে তাদের পছন্দের লোকদের নামভুক্ত করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

ফরিদপুরের সদর উপজেলার অম্বিকাপুর ইউনিয়নের চর আদমপুরের মৃত সালমান ফকিরের স্ত্রী পঞ্চাশোর্ধ হাফেজা বেগম (৫৫)। স্বামীর সূত্রে পাওয়া ৩ শতাংশ জমিতে তিনি বাস করেন। বাসাবাড়িতে ঝিয়ের কাজ করেন। সরেজমিনে দেখা যায়, তিনটি ছাপড়া ঘরের সবক’টিই পাটখড়ির। হাফেজা বেগম বলেন, ‘২ বছর আগে একটা চিঠি দিছিলো ঘর করার টাহা দিবার জন্যি। এহনো পাই ন্যাই। কয়েকবার অফিসেও ডাকছিলো। জমির দলিল, জাতীয় পরিচয়পত্র চাইলো। সবকিছুই জমা দিছি। কিন্তু ঘর করার আর টাহা দেয় না।’

একই ধরণের অভিযোগ এই প্রকল্পের বরাদ্দপ্রাপ্ত আনোয়ার হোসেন, আনোয়ার জমাদ্দার, রেজিয়া বেগম, খোদেজা বেগম, রহিম মোল্যা, আলী বেপারী, আনোয়ারা বেগম সহ অন্যদের। তাদের সকলেই প্রায় হতদরিদ্র। পাটখড়ির ছাপড়াতেই বাস করেন।

রিক্সাচালক আনোয়ার জোয়ার্দার বলেন, আমাগের ঘর বরাদ্দ হলিও পাই নেই। তয় পাশের রিয়াজুল খাঁ ওই টাকা পাইয়্যা ঘরও তুলছে। কিকারণে তাদের বাদ দিয়েছে সেটি জানেন না তিনি। সম্প্রতি ধারদেনা করে আনোয়ার পাটখড়ির বিধ্বস্ত ছাপাড়াটিতে টিন দিয়েছেন।

এব্যাপারে জানতে তৎকালীন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুধাংশ মহান সোমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার সময়ে এই প্রকল্পে ১০টির মতো ঘর হয়। বাকিগুলো সম্মন্ধে আমি জানিনা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেসময়ে এসব ঘর করার বিষয়টি সরেজমিনে দেখাশুনা করেন ওই কার্যালয়ের তৎকালীন অফিস সহকারী মিজানুর রহমান ও টেকনিশিয়ান জুয়েল মন্ডল।

মিজানুর রহমান বলেন, উপজেলা হতে ঢাকায় পাঠানো তালিকার বাইরে এসব নাম যোগ করা হয়। ফলে বরাদ্দের পরে ফরিদপুর থেকে তাদের নাম আবার বাতিল করা হয়।

জুয়েল মন্ডল বলেন, সেসময়ে উপজেলা চেয়ারম্যান মোহতেশাম হোসেন বাবর এসব বরাদ্দপ্রাপ্তদের নাম বাদ দিয়ে নতুন করে নাম অনুমোদন করিয়ে আনেন। এছাড়া প্রকল্পের শর্তানুসারেও কয়েকজনের নাম বাদ পড়ে যায়। তবে এ সংখ্যা ঠিক কতোজন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এবাপারে ফরিদপুর সদর উপজেলার বর্তমান দ্বায়িতরত নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ রেজার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে দশ জনের মতো লোকের অভিযোগ পেয়েছি। এই প্রকল্প নিয়ে কিছু কথা উঠেছে। বরাদ্দের পরেও ঘর না পাওয়াদের অনেকে হতদরিদ্র ও প্রধানমন্ত্রীর এই আশ্রায়ন প্রকল্পে ঘর পাওয়ার উপযুক্ত স্বীকার করে তিনি বলেন, কি কারণে তারা ঘর পেলোনা বিষয়টি খতিয়ে দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে কোন দুর্নীতি হয়েছে কিনা সেটিও খুঁজে বের করা হবে।