Sun. Dec 15th, 2019

ফলোআপ: সেই শিশুদের দ্বায়িত্ব নিলেন ভাঙ্গার ইউএনও

শিশু দু’টিরকরুণ হাল জানতে পেরে তাদের বাড়িতে ছুটে যান ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মূকতাদিরুল আহমেদ। ছবি- ফরিদপুর টাইমস।

আহম্মদ ফিরোজ, ফরিদপুর টাইমস:

৫ বছরের শিশু সামিয়া ও ৮ বছরের সাব্বির দু’ভাইবোন। এখনো নিজেদের যতœ নিতে শিখেনি। হতদরিদ্র পরিবারে জন্ম নিয়ে ছোটবেলা থেকে অভাবই দেখে এসেছে। তবে এর মাঝে তাদের পরম পাওয়া ছিলো মমতাময়ী মায়ের আদরটুকুই। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস গত ৬ অক্টোবর রোববার সকালে তাদের মা সালমা বেগম (৩২) গলায় দিয়ে দিয়ে আত্মহত্যা করেন। এরপর তাদের জীবন এক দুর্বিষহ অমানিশার কবলে পড়ে যায়।

সামিয়া ও সাব্বিরের বাবা একরাম মাতুব্বর দরিদ্র ফেরিওয়ালা। ঘুরে ঘুরে তাবিজ-কবজ বিক্রি করেন। একরাম মাতুব্বর জানান, সন্তানদের ঠিকমতো খাবার জোগাড় হতো না। স্ত্রীও দুরারোগ্য ক্যান্সারের রোগী ছিলেন। এসব কারণে বড়ই হতাশ আর অভিমানী হয়ে পরেন স্ত্রী সালমা। তবে এভাবে আত্মহত্যা করে চলে যাবেন সেটি ভাবেননি।

এ ঘটনার পর থেকে সামিয়া ও সাব্বিরের কান্না যেনো থামছে না। গত চারদিন তারা প্রতিবেশীদের এবাড়ি ওবাড়ি ছুটে বেড়াচ্ছে আর মাকে খুঁজছে। গত কয়েকদিন যাবত প্রতিবেশীরা তাদের খাইয়েছেন। কিন্তু এভাবে আর কতোদিন?

শিশু দু’টির এমন করুণ হাল জানতে পেরে গত বুধবার (৯অক্টোবর) রাতে তাদের বাড়িতে ছুটে যান ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মূকতাদিরুল আহমেদ। এসময় তিনি শিশু দু’টির ঘরে ঢুকে পিতৃতূল্য আদরে তাদের কোলে তুলে নেন। তাদের আদর করেন। তাদের হাতে উপহার স্বরুপ নতুন জামা ও বইপত্র তুলে দেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মূকতাদিরুল আলম বলেন, বাচ্চা দু’টির কষ্টে আমরা ভিষণ ব্যাথিত। এখন থেকে ওদের জন্য উপজেলা প্রশাসনের দরজা সবসময় খোলা। ওরা যেনো খাবারের কষ্টে না ভোগে, টাকা পয়সার অভাবে যেনো ওদের পড়াশুনা বন্ধ হয়ে না যায়, সে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

শিশু দু’টির বাবা একরাম মাতুব্বরের একটি কর্মসংস্থানের বিষয়টিও চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। এসময় ভাঙ্গা উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোজাফফর হোসনে, ভাঙ্গা উপজলো প্রেসক্লাবের সভাপতি মামুনুর রশিদসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিধি উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, গত ৬ অক্টোবর সালমা বেগমের আত্মহত্যার পর ফরিদপুর টাইমস সহ বিভিন্ন মিডিয়ায় ‘সন্তানদের খাবার জোগাতে না পেরে মায়ের আত্মহত্যা’ শিরোনামে একটি মানবিক আবেদনপূর্ণ খবর প্রকাশ করে। খবরটি পাঠকদের মাঝে ব্যাপক নাড়া দেয়। এখবর জানতে পেরে অনেকেই তাদের প্রতি সমবেদনা জানান।