Sat. Dec 14th, 2019

হাসপাতালের বিষাক্ত বর্জ্য ছড়িয়ে পড়ছে অফিস পাড়ায়

আহম্মদ ফিরোজ, ফরিদপুর টাইমস:

শহরের পশ্চিম খাবাসপুর ও হাড়কান্দি এলাকায় বিষাক্ত ক্লিনিক্যাল বর্জ্য ছড়িয়ে পড়ছে। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ (ফমেক) হাসপাতালসহ বেশ কয়েকটি প্রাইভেট ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের এসব বজ্রের কারণে রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ করেছেন। ফমেক হাসাপাতালের সামনে সড়ক ও জনপদ বিভাগের জায়গায় পৌরসভার একটি বর্জ্য ফেলার ডাম্পিং স্টেশন ছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আপত্তির কারণে সম্প্রতি সেটি অপসারণ করা হয়। এখন এই ফমেক হাসপাতালসহ অন্যান্য প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের পাশে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) সেচ অফিসের সামনের খালে। অনেক হোটেলের বর্জ্যও একইসাথে ফেলা হয়। এতে সেখানে চরম দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। বিএডিসি অফিস চত্বরে এসব পঁচা পানি ঢুকে পড়ছে। অনেকে শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া ও চুলকানিসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। আশেপাশের এলাকাবাসী ও পথচারীগণও এতে অতিষ্ঠ।

ফরিদপুর সদর হাসপাতালের কনসালটেন্ট ডাঃ তানসিফ জুবায়ের নাদিম বলেন, ক্লিনিক্যাল বর্জ্য খুবই বিষাক্ত। এটি বাতাসের সাথে মিশে শরীরে অনেক কোন রোগের কারণ হতে পারে। সবচেয়ে মারাত্মক হল, এটি শরীরের রোগকে আরো বাড়িয়ে তুলে। যেকোন যায়গায় ইনফেকশন হতে পারে। এছাড়াও শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া সহ নানা রোগ ছড়ায়। জনস্বাস্থ্যের জন্য এই দুষিত বাতাস খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।

বিএডিসি অফিসের আঞ্চলিক হিসাব কর্মকর্তা বলেন, আমাদের অফিসের পাশেই হাসপাতাল ও প্রাইভেট ক্লিনিকের এসকল বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। একারণে সারাদিনই অফিসের সকল জানালা বন্ধ রাখতে হয়। একটা বদ্ধ পরিবেশে কাজ করতে হচ্ছে। দুর্গন্ধে অফিসে বসে দুপুরের খাবার খেতে পারি না।

হিসাব সহকারি মানোয়ার হোসেন বলেন, আমি কিছুদিন যাবৎ শ্বাসকষ্ট অনুভব করছি। অফিসে যতক্ষন থাকি দুর্গন্ধের সাথে বাস করি। এছাড়াও চলমান ডেঙ্গু আতঙ্কের মাঝেই এভাবে ময়লা ফেলার কারণে প্রচুর মশার উৎপাদন হয়েছে এখানে।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল তত্বাবধায়ক ডাঃ কামদা প্রসাদ সাহা বলেন, মেডিকেল সংলগ্ন বিএডিসি অফিসের সামনে যে বর্জ ফেলা হয় তা আমাদের হাসপাতালের নয়। এ ময়লা প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোর। ফমেকের বর্জ্য পৌরসভা গাড়িতে এসে নিয়ে যায়।

স্থানীয় এলাকাবাসী বলেন, মেডিকেল কলেজের সামনে একটি ময়লা ফেলার জায়গা ছিল। সেখানে সব বর্জ্য ফেলা হতো। এখন প্রাইভেট ক্লিনিক সহ রাতের বেলায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকেও বর্জ্য ময়লা ফেলা হয় এখানে। এই ময়লা ছড়িয়ে পড়ছে। বাতাসে বিষাক্ত দুর্গন্ধে রাস্তায় সুস্থ্যভাবে চলাচল করা যায়না।

বিএডিসি সেচ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কাওসার আহমেদ মুন্সি বলেন, বর্জ্য ফেলা ও দুর্গন্ধের বিষয়টি ফরিদপুর পৌর মেয়র শেখ মাহতাব আলী মেথুকে মৌখিক ভাবে জানিয়েছি। তিনি এখানে একটি ডাস্টবিন করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে এখনও এখানে খোলা জায়গায় ময়লা ফেলা বন্ধ হয়নি।

ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র মাহতাব আলী মেথু বলেন, ফমেক হাসপাতালের সামনের ডাস্টবিনটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আপত্তির কারণে ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। আমরা ওই এলাকায় আরেকটি বর্জ্য ফেলার ডাম্পিং স্টেশন অচিরেই করে দেব। মেডিকেল এলাকায় যত্রতত্র ক্লিনিক গড়ে উঠায় এসব নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না বলে তিনি জানান।