September 24, 2020

প্রযুক্তি নিষেধাজ্ঞার অবসান চেয়েছেন মাইক্রোসফটের প্রেসিডেন্ট

চীনা টেক জায়ান্ট হুয়াওয়ের তৈরিকৃত কম্পিউটারগুলোতে উইন্ডোজ সফটওয়্যার সরবরাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নিষেধাজ্ঞার অবসান ঘটাতে বলেছেন মাইক্রোসফটের প্রেসিডেন্ট।

মার্কিন সুরক্ষার জন্য হুয়াওয়েকে হুমকি হিসেবে দাবি করে চলতি বছরের মে মাসে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করে ট্রাম্প প্রশাসন। এই পদক্ষেপ মার্কিন কোম্পানিগুলোকে তাদের সর্বশেষ প্রযুক্তি ও সেবা সরবরাহের পথ আটকে দিয়েছে।

বিবিসি নিউজকে মাইক্রোসফটের প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড স্মিথ বলেন, তিনি মনে করেন না গ্রাহকদেরকে হুয়াওয়ের ডিভাইসে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম এবং অ্যাপস ব্যবহারের অনুমতি দিলে মার্কিন নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন হবে।

তিনি বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে সরকারগুলো তাদের জাতীয় সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা সমাধান করতে চলেছে। আমরা বিশ্বাস করি একই সময়ে ডিজিটাল দেয়াল গড়ার চেষ্টাটা ভুল হবে- আমি মনে করি যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে ধরে রাখবে এবং বিশ্বের গণতন্ত্র বজায় রাখবে।’

অন্যান্য মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানির মতো মাইক্রোসফটও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগে আবেদন করেছে হুয়াওয়ের ডিভাইস যেমন ল্যাপটপে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম সরবরাহের অনুমতির জন্য।

মাইক্রোসফটের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘হুয়াওয়ের ৫জির ক্ষেত্রে কিছু বিষয় থাকতে পারে। কিন্তু তাই বলে একটি কোম্পানি তৈরি করতে পারে এমন সবকিছুতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ সঠিক পদ্ধতিটি কিনা তা আসলে জানতে চাওয়া উচিত।’

চলতি বছরের জুলাইয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সচিব উইলবার রস বলেছিলেন, তাঁদের জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে কোনো হুমকি না থাকলে হুয়াওয়ের সঙ্গে ফের ব্যবসা শুরু করতে কোনো বাধা নেই। মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রযুক্তি সেবা বিক্রির লাইসেন্স দেওয়া হবে।

এটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের পৃথক আদেশকে প্রভাবিত করবে না, যা হুয়াওয়েকে মার্কিন টেলিকম নেটওয়ার্কগুলোতে ৫জি সরঞ্জাম বিক্রয় নিষিদ্ধ করেছে।

তবে, হুয়াওয়ের সঙ্গে ব্যবসার ১০০টির বেশি আবেদন পেয়েও এ জাতীয় কোনো লাইসেন্স এখনো দেয়নি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগ।

যার ফলস্বরুপ গুগলের ইউটিউব, ম্যাপস, প্লেস্টোরের মতো সেবাগুলোই ছাড়াই হুয়াওয়ে তাদের মেট ৩০ সিরিজের ফ্লাগশিপ স্মার্টফোন করেছে। নতুন এই স্মার্টফোনে গুগলের বিকল্প সেবাগুলো ইনস্টল রয়েছে। ‍উপরন্তু, নতুন ফোনে কিভাবে ভিন্ন উপায়ে গুগলের সেবাগুলো ব্যবহার করা সম্ভব হবে, তারও একটা উপায় বের করার পরিকল্পনা রয়েছে হুয়াওয়ের।

হুয়াওয়ের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ‘হুয়াওয়ের ডিভাইস এবং নেটওয়ার্কগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা কোনো দেশের জন্য হুমকিস্বরূপ নয়। আমরা যেসব দেশে ব্যবসা পরিচালনা করি সেসব দেশে সমস্ত স্থানীয় আইন ও বিধিবিধানকে পুরোপুরি মেনে চলি।’

সঠিক ভারসাম্য প্রয়োজন

মাইক্রোসফটের প্রেসিডেন্ট স্বীকার করেছেন যে, কোন প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাইসেন্স দেওয়া প্রয়োজন হবে তা বাণিজ্য বিভাগের বিবেচনা করার সময় এখন হয়েছে। তবে তিনি এটাও বলেন, ‘আমরা মনে করি না আমাদের সার্চ সেবা, প্রোডাক্টিভিটি সফটওয়্যার, ইমেইল সেবা আউটলুক বা মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ব্যবহার করে কোনো দেশের সুরক্ষা হ্রাস পায়।’

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে হুয়াওয়ের প্রতিষ্ঠাতা রেন ঝেংফাই তার কোম্পানিকে ‘জীবন-মৃত্যুর সংকট’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। গুঞ্জন রয়েছে, চীনে ব্যবসা পরিচালনাকারী মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর নিষেধাজ্ঞার চাপ দিয়ে পাল্টা প্রতিশোধ নিতে পারে চীনা সরকার। এরই মধ্যে শুল্কারোপের কারণে চীন থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছে বহু মার্কিন প্রতিষ্ঠান।

মাইক্রোসফটের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘অন্যান্য প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মতো চীনে আমাদের এতো বড় ব্যবসা নেই- মাইক্রোসফটের মাত্র ১.৮ শতাংশ আয় চীন থেকে আসে। আমরা নিষেধাজ্ঞার প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন।’

তিনি বলেন, ‘ক্যামব্রিজ, ওয়েস্ট কোস্ট, বেইজিং অথবা বেঙ্গালুরুর গবেষকরা আর যদি একত্রে কাজ না করেন তাহলে বিষয়টি ভীতিকর হবে। বিশ্বের প্রয়োজনীয় সমাধানগুলো খুঁজে বের করতে আমাদের সবার কাজ চালিয়ে যেতে হবে। সেখানে যদি আমরা একত্রে পদক্ষেপ নিতে না পারি এবং দেশগুলোতে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখতে না পারি তাহলে তা উদ্বিগ্নের।’

তথ্যসূত্র : বিবিসি

Please follow and like us
error0
Tweet 20
fb-share-icon20