Sat. Dec 14th, 2019

ডেঙ্গু জ্বরে নিভে গেলো সামিয়ার প্রাণ

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফরিদপুর টাইমস:
ঢাকা থেকে বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসে ডেঙ্গু জ্বরে নিভে গেছে সামিয়া আক্তার (৩২) নামে এক গৃহবধুর প্রাণ। নিহত সামিয়া ফরিদপুর শহরের কুঠিবাড়ি কমলাপুর মহল্লার জনৈক সৈয়দ আবু সালেহ সাঈদের মেয়ে এবং বোয়ালমারী উপজেলার কাদিরদি গ্রামের কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজ মোর্শেদের স্ত্রী। তার এক মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছেন।

এছাড়া ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত সাহেব আলি (৪৫) নামের আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার (১৯ আগষ্ট) রাতে তার মৃত্যু হয়। সাহেব আলি রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের মাটিপাড়া গ্রামের মনসের আলির ছেলে। তিনি নিজ এলাকায় ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। সাহেব আলীকে নিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাত জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হলো।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. কামদা প্রসাদ সাহা জানান, রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল থেকে রের্ফাড হয়ে গতকাল সোমবার দুপুরে আশংকাজনক অবস্থায় সাহেব আলি ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

সাহেব আলির জামাতা জাহাঙ্গীর মোল্লা জানান, ঈদের আগের তার শ্বশুর ঢাকায় বেড়াতে যান। সেখান থেকে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে এসে রাজবাড়ী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখানে সোমবার রাতে তার মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার সকালে জানাজা শেষে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে বলেও তিনি জানান।

এদিকে সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘন্টায় ফরিদপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন ভর্তি হয়েছেন ৭০ জন। বর্তমানে জেলার হাসপাতল গুলোতে মোট চিকিৎসা নিচ্ছেন ৩৫৭ জন। গত ২০ জুলাই থেকে এ পর্যন্ত ১ হাজার ২শ’ ৮৯ জন চিকিৎসা নিয়েছেন।

ফরিদপুরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় মারা গেলেন গৃহবধু

ফরিদপুরে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর মারা গেছেন সামিয়া আক্তার (৩২) নামে একজন গৃহবধু। গত রোববার সন্ধার দিকে ঢাকার হলিফ্যামেলী হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

সামিয়ার বাবা সৈয়দ আবু সালেহ সাঈদ জানান, সামিয়া ও তার স্বামী ঢাকার শ্যামলী থাকতেন। গত ১০ আগষ্ট ঈদের ছুটিতে সে ফরিদপুরে বাবার বাড়িতে এসে রাতে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হন। এরপর তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। কিন্তু ঢামেকে শয্যা না থাকায় তাকে হলি ফ্যামেলি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক এই ডেঙ্গু জ্বরে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে মঙ্গলবার পর্যন্ত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭ জন এবং ফরিদপুর থেকে ঢাকায় চিকিৎসা নিতে যেয়ে মারা গেছেন আরো ৫ জন। এদিকে, ফরিদপুর জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী এ পর্যন্ত সাত জনের ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হলো।