Sat. Dec 14th, 2019

অপহরণের পর শিশু হত্যা: ১৬ দিন পর গলিত লাশ উদ্ধার

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফরিদপুর টাইমস:
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় নিখোঁজের ১৬ দিন পর আবু বাকার (৭) নামে এক শিশুর গলিত মরাদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। হত্যাকারীর দেখানো স্থান থেকে আজ বুধবার সকালে পুরাপাড়া খাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে।

আবু বাকার পুরাপাড়া ইউনিয়নের মেহেরদিয়া গ্রামের মেহেরদিয়া গ্রামের পাচু খলিফা ও তাছলিমা বেগমের ছেলে। সে মেহেরদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেনীর ছাত্র ছিল। গত ১ জুলাই সে নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের ঘটনায় আবু বাকারের পিতা বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামাদেও বিরুদ্ধে থানায় একটি জিডি করেন।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, আবু বাকারকে হত্যার পর ওই দিন রাতেই হত্যাকারী তার আপন চাচাতো ভাই জিনদার খলিফা শাওন একটি মোবাইল ফোনের সিমকার্ড দিয়ে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এরপর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ও বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে ঘাতক জিনদার খলিফা শাওনকে (২২) আটক করে নগরকান্দা থানা পুলিশ। আটক জিনদার মেহেরদিয়া গ্রামের টুকু খলিফার ছেলে এবং নিহত আবু বাকারের চাচাতো ভাই। জিনদার খলিফা ২০১৯ সালে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল। এছাড়া এ ঘটনায় মেহেরদিয়া গ্রামের কাঞ্চু শেখের ছেলে অটোবাইক চালক মাহাবুব শেখকে (২৫) আটক করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, দু’দিন আগে আবু বাকারের আপন চাচাতো ভাই একই গ্রামের মৃত টুকু খলিফার ছেলে জিনদার খলিফা শাওনকে পুলিশ আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ সময় শাওন আবু বাকারকে হত্যার কথা স্বীকার করে। জিনদার জানায়, শিশু আবু বাকারকে গলা টিপে শ^াসরোধ করে হত্যা করার পর কুমার নদের কচুরীপানার নিচে লাশ লুকিয়ে রাখে তারা।
আজ বুধবার বেলা ১০টার দিকে শাওনের দেখিয়ে দেয়া স্থান পুরাপাড়া খালের কচুরীপানার নিচ থেকে গলিত অবস্থায় আবু বাকারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

শিশু আবু বাকারকে অপরহণ, মুক্তিপণ দাবি ও হত্যার ঘটনায় তার আপন দুই চাচাতো ভাই জিনদার খলিফা শাওন ও ইমদাদ শেখ সহ এক অটো চালক মাহবুব শেখকে আসামী করে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।