দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষ ধনী মূসা বিন শমশেরকে হত্যার ষড়যন্ত্র পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই’র

নয়াদিল্লি:
বিশ্বের দুর্ধর্ষ অস্ত্র ব্যবসায়ী বাংলাদেশী নাগরিক মূসা বিন শমশের যিনি বিশ্বব্যাপী প্রিন্স মূসা নামে সমধিক পরিচিত তাকে পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই হত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সম্প্রতি আইএসআই এই নিষ্ঠুর তালিকায় তার নাম অন্তর্ভূক্ত করেছে। উল্লেখ্য, দক্ষিন এশিয়ায় শীর্ষ ধনীর তালিকায় চতুর্থ ড. মূসার জীবন হানির এই পরিকল্পনায় তার নিরাপত্তা ঝুঁকি বহুগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। খবর ইউএনআই (ইউনাইটেড নিউজ অব ইন্ডিয়া)।

গুগলের উইকিপিডিয়া সম্প্রতি বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তিদের তালিকা প্রকাশ করেছে। সেই জরিপ অনুযায়ী মুকেশ আম্বানী এই অঞ্চলের শীর্ষ ধনী ব্যক্তি হিসাবে পরিগনিত হয়েছেন। বিশ্বের ধনীতম ব্যক্তিদের তালিকায় তার স্থান ৩৬তম। এই তালিকায় দক্ষিন এশিয়ার শীর্ষ দ্বিতীয় ধনী ব্যক্তি হিসাবে বিবেচিত হয়েছেন দিলীপ সাংভি। বিশ্বের ধনীদের তালিকায় তার স্থান ৪৪তম। দক্ষিন এশিয়ার তৃতীয় ধনী ব্যক্তির তালিকায় উঠে এসেছে আজিম প্রেমজীর নাম। বিশ্ব প্রেক্ষাপটে তিনি ৫৫ তম ধনী।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী ড. মূসা বিন শমশের দক্ষিন এশিয়ার চতুর্থ ধনী ব্যক্তি হিসাবে প্রমানিত হয়েছেন। বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের মধ্যে তার অবস্থান ৭০তম। ড. মূসা বিশ্ব পরিমন্ডলে এক সময় দুর্ধর্ষতম আন্তর্জাতিক অস্ত্র ব্যবসায়ী হিসাবে পরিচিত ছিলেন।

ড. মূসার অবস্থান অস্ত্র ব্যবসায়ী আদনান খাশোগীর পরেই। আদনান খাশোগী এক সময় বিশ্বের শীর্ষ অস্ত্র ব্যবসায়ী হিসাবে ব্যাপক পরিচিত ছিলেন। ২০১৭ সালে মৃত্যুর কিছু আগে তার ঘনিষ্ঠতম বন্ধু মূসা বিন শমশেরের নামে ২০ বিলিয়ন ইউরো উইল করে যান। উক্ত ২০ বিলিয়ন ইউরো ইউরোপের কয়েকটি ব্যাংকে আছে। বাকি ১২ বিলিয়ন ডলার বর্তমানে সুইস ব্যাংক জব্দ করে রেখেছে। অর্থাৎ তিনি বতর্মানে ৩২ বিলিয়ন ইউরোর মালিক।

সম্প্রতি ড. মূসা তার সমুদয় অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সরকারী অনুমোদনের জন্য বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রী ও অর্থ মন্ত্রনালয়কে চিঠি দিয়ে অনুরোধ জানিয়েছেন।

২০ বিলিয়ন ইউরো ও সুইস ব্যাংকে জব্দকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনা হলে বাংলাদেশকে প্রভূত আর্থিক সহযোগীতার আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ড. মূসা।

স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের নির্দেশে তার কোম্পানী ‘ড্যাটকো’র মাধ্যমে মানব সম্পদ রপ্তানীতে তিনি পথিকৃতের ভূমিকা পালন করেন। তিনিই বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানীর জনক ও শ্রেষ্ঠ রূপকার। একই সাথে ড. মূসা ও তার চৌকস টিম বাংলাদেশকে অ-স্থিতিশীল, শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্য ও আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতাদের বারবার হত্যা চক্রান্ত এবং আইএসআই এর ভয়ঙ্ককর ষড়যন্ত্র সফল ভাবে প্রতিহত করে। এমনকি ২০০৪ সালের ২১ শে অগাষ্টের হামলার কথা ড. মূসা শেখ হাসিনাকে অবহিত করে সতর্ক করেছিলেন।

শেখ হাসিনাকে এই আগাম বার্তার মূলে ছিলো তিনি যেন সমাবেশে উপস্থিত না হন। বঙ্গবন্ধু এভিনিউর এই সমাবেশ জিপিওর সামনে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু উক্ত সতর্ক বার্তা উপেক্ষো করে শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু এভিনিউর সামনের সমাবেশে যোগদান করলে ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম ঘটনা ঘটে এবং শেখ হাসিনা অক্ষত অবস্থায় বেঁচে যান।

ড. মূসা বিন শমশেরের টিম এরকম বেশ কিছু যেমন ২০০৬ সাল ২৬ শে মার্চ জাতীয় স্মৃতিসৌধে, ২০০৮ সালে ১৪ই ডিসেম্বর রায়ের বাজার বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ ও ২০১৭সালে অগাষ্ট মাসে গণভবনের মধ্যে ভারতের প্রয়াত প্রধান মন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ষ্টাইলে শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে চেয়েছিলো। সবই ঠিক ছিলো সেই ভয়ঙ্কর হামলা প্রতিহত করেন ড. মূসা বিন শমশের। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিলেন শেখ হাসিনা, তার পরিবার ও আওয়ামীলীগের প্রথম সারির নেতৃবৃন্দ। তাদের হামলাগুলো ব্যর্থ করে দেওয়ার কারণে পাকিস্তানী দুর্ধর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এর ক্রোধ ড. মূসার উপর ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছিলো। ড. মূসা বিন শমশের এই সাংবাদিককে জানান, এই মূহুর্তে আইএসআই এর প্রধান টার্গেটে পরিনত হয়েছি আমি। পাকিস্তানী এই গোয়েন্দা সংস্থাটি আমাকে হত্যার ষড়যন্ত্র ও লক্ষবস্তু করেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

এই প্রতিবেদক বাংলাদেশের বিশিষ্ট নাগরিক ও সুশীল সমাজের সঙ্গে ড. মূসার নিরাপত্তা সংকট নিয়ে কথা বলেছেন। জাতির সামগ্রিক উন্নয়নে ড. মূসা বিন শমশেরের কথা স্মরণ করে তারা অবিলম্বে ড. মূসার নিরাপত্তায় ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলেন। তারা বলেন বাংলাদেশের পূনর্গঠন ও সমৃদ্ধিতে ড. মূসার অভুতপূর্ব অবদান জাতিকে ঋণী করে রেখেছেন। আর এই ঋণের বোঝা বাংঙ্গালী জাতিকে বইতে হবে অনন্তকাল।

অনুবাদ ও সংকলনঃ কায়কোবাদ মিলন
সূত্রঃ- ইউএনআই (ইউনাইটেড নিউজ অব ইন্ডিয়া), ২৯ মে, ২০১৯ইং।