Mon. Oct 14th, 2019

ড. মূসা বিন শমসেরের বইয়ের মোড়ক উম্মোচন

নিউজ ডেস্ক:

ড. মূসা বিন শমসেরের লেখা একটি বইয়ের মোড়ক উম্মোচন করেছে মেট্রো পাবলিকেশন্স। বইটির শিরোনাম করা হয়েছে ‘আধুনিক সভ্যতার মূর্ত প্রতিক ও তার অমর কীর্তি’। বৃহস্পতিবার বিকালে জাতীয় প্রেসস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বইটির মোড়ক উম্মোচন করা হয়। মোড়ক উম্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবীদ, লেখক ও গবেষক ড. মো: শহীদুল্লাহ প্রামাণিক, বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবীদ এমএইচ আলী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্যারিষ্টার ওমর ফারুক। অনুষ্ঠানে মূসা বিন শমসের আসেননি।

মূসা বিন শমসেরের টাকা দেশে আনার ক্ষেত্রে সরকারের সার্বিক সহযোগীতা চেয়ে ব্যারিষ্টার ওমর ফারুক বলেন, এই টাকা দেশে আনা হলে অনেক কাজে লাগানো যাবে। দেশের বেকার সমস্যার সমাধান হবে। খবর দৈনিক যুগান্তর।

অনুষ্ঠানে মেট্রো পাবলিকেশন্স এর স্বত্বাধিকারী ও হোষ্ট জনাব আবুল বাশার স্বাগত বক্তব্য দেন। তার বক্তব্য  তুলে ধরা হলো:

শ্রদ্ধেয় সুধীমন্ডলী,

আসসালামু আলাইকুম। রমাদান মোবারক।

প্রকাশক হিসাবে আজ আপনাদের বেশি সময় নষ্ট করবো না তবে কয়েকটি কথা না বললেই নয়। আপনারা বুঝতে পারবেন বইয়ের নাম করনের যথার্থতা। এই বিশ্ব বরেণ্য বঙ্গ সন্তানের উপরে বইটি প্রকাশ করে আমি প্রকাশক হিসাবে কৃতার্থ ।

কর্মই মানুষের অমরত্ব। বিশ্বের ইতিহাসে রয়েছে তার সীমাহীন প্রমান। যে ব্যক্তি চিন্তা মেধা ও কর্মদক্ষতায় সবার সেরা তিনিই কীর্তিমান ও ইতিহাস সাক্ষ্য অমর। আর তাদেরই একজন বাংলাদেশের বংশোদ্ভূত ড. মূসা বিন শমশের, যিনি তার মেধা ও কর্ম দক্ষতার বলে সারা বিশ্বকে তাক লাগিয়েছেন বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কর্মের মাধ্যমে। যার হাতধরে বাংলাদেশ আজ সমগ্রবিশ্বের কাছে অতিপরিচিত একটি দেশ। যিনি যুদ্ধ-বিধ্বস্ত বাংলাদেশের ভাগ্য প্রবর্তক ও কোটি কোটি মানুষের স্বপ্নপূরণকারী বিস্ময়কর এক স্বপ্নদ্রষ্টা ও সফল পথ-প্রদর্শক, যার ঋণের বোঝা বইতে হবে এই জাতিকে অনন্তকাল।

স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশ ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত, ভয়ংকর দুর্দশাগ্রস্ত, দুর্ভিক্ষ পীড়িত সম্প্রদায় ও জাতি। বাংলার আকাশে ছিল এক মহা দুর্যোগের ঘনঘটা। ঠিক হঠাৎই ঐশ্বরিকভাবে এক অর্থনৈতিক রেনেসাঁর মাধ্যমে সূচনা হয় বাঙ্গালী জাতির ভাগ্যে এক নব দিগন্ত। যখন সেই রেনেসাঁর একমাত্র উৎস ও মুক্তির সোপান জনশক্তি রপ্তানির আতুরঘর থেকে গগণচুম্বী উন্নয়নের ইতিহাস লেখা হবে তখন বাংলার প্রতিটি ঘর হবে উৎসবে মাতোয়ারা। আর সমগ্র বাংলার আকাশ আতশবাজিসম লক্ষ লক্ষ উজ্জ্বল নক্ষত্রের আলোক রশ্মিতে উদ্ভাসিত হবে। তখন সবার উপরে এবং সর্ব উচ্চে শির উচুঁ করে একটি নামই গর্বের সাথে বিরাজ করবে জীবন্ত কিংবদন্তি প্রিন্স ড. মূসা বিন শমশের। ড. মূসা বিন শমশের এক অবিসংবাদিত কিংবদন্তি, বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি ও অর্থনৈতিক মুক্তির জনক।

ড. মূসা বিন শমশের বাংলার সেই সূর্যসন্তান যিনি উজ্জ্বল এক নক্ষত্র হয়ে দেখা দিয়েছিলেন এই জাতির ভাগ্যাকাশে, চিরতরে বদলে দিয়েছিলেন বাঙ্গালী জাতির ভবিষ্যৎ। আর তাইতো এই মহান স্বপ্নদ্রষ্টার কাছে জাতি আজ চিরঋণী। কারণ তাঁর সৃষ্ট রেমিট্যান্সের প্রবাহ- যা প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ, বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণ ও অর্থনৈতিক মুক্তির সনদ। প্রবাসীদের পাঠানো এই অর্থের উপর ভিত্তি করেই দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। আর যার অবিস্মরনীয় মেধা, অক্লান্ত পরিশ্রম ও একক ভাবে প্রচুর অর্থ ব্যয় করে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশীদের জন্য এই শ্রমবাজার সৃষ্টি করেছেন, যার হাত ধরে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ শুরু হয়, যার দীর্ঘমেয়াদী অভূতপূর্ব বলিষ্ঠ উদ্যোগের ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশের আজ বৈদেশিক মুদ্রার রেকর্ড পরিমান রিজার্ভ, তিনি আর কেউ নন- বিশ্ব বরেণ্য ধনকূবের ড. মূসা বিন শমশের। রাজকীয় জৌলুসপূর্ণ জীবনধারার জন্য যিনি পৃথিবীজুড়ে প্রিন্স মূসা নামে পরিচিত।

ইতিহাস সাক্ষ্য, ড. মূসা বিন শমশের বাংলাদেশ স্বাধীনতা-যুদ্ধের বিপুল ধ্বংসযজ্ঞ ও প্রাণনাশে ধ্বসেপড়া জাতীয় অর্থনীতি সর্বজন বিদিতভাবে পুনরুদ্ধারে বিস্ময়কর এক অভূতপূর্ব ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেন যাহা কম বেশী সকলেরই জানা। যদি ড. মূসা সফল না হতো তাহলে হয়তো আজও বিশ্ব অবাক করা প্রাণবন্ত বাংলাদেশ যুযুসম আরেক সোমালিয়ার ভাগ্য বরণ করতো।

সম্মানিত সুধীমন্ডলী, 

আপনারা অবাক হবেন তার আরেকটি অমর কীর্তির কথা, সেটা হলো ইসলামের চিরশত্রু ইসরাইল সরকার ৮০ দশকে সম্ভবত ১৯৮৪ সালে পবিত্র হজ্বের সময় ঠিক আরাফাতের দিন  ভঙ্ককর ও মারাত্মক মরনাস্ত্র মিসাইল নিক্ষেপ করে মক্কা, মদিনা, ও জেদ্দা ধ্বংসের পরিকল্পনা করে ছিলো এবং সৌদি মূল ভূখন্ড থেকে মক্কা, মদিনা ও জেদ্দাকে সমুদ্রের গর্ভে বিলীন করে দেওয়ার সমস্ত পরিকল্পনা চুড়ান্ত করে ছিলো। মুসলিম জাহানের পবিত্র স্থান ধ্বংস হয়ে গেলে ইসলাম ধর্ম হয়তো বিলীন হয়ে যেত। সেই মহা ধ্বংসযজ্ঞ থেকে পবিত্র মক্কা, মদিনা ও জেদ্দাকে রক্ষা করেছিলেন বিশ্ব বরেণ্য অস্ত্র ব্যবসায়ি ড. মূসা বিন শমশের। তিনি ইসরাইলের ভয়ঙ্কর পরিকল্পনাটি নস্যাৎ এর পর সারা বিশ্বে ইসরাইলকে কোনঠাসা করে রাখতে সক্ষম হন। সেই ভয়ঙ্কর পরিকল্পনাটির খবর হয়তো বিশ্ববাসী জানতো না তবে সৌদি বাদশা ফাহাদ, ক্রাউন প্রিন্স সুলতান, প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন, প্রেসিডেন্ট হাফেজ আল আসাদ এবং পিএলও প্রধান ইয়াসির আরাফাত জানতেন।

এছাড়া বেশ কয়েকবার মোসাদ পাকিস্তানের আইএসআই যৌথ ভাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার পরিবারের সদস্য ও আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতাদের হত্যার পরিকল্পনা করে। ড. মূসা বিন শমশের সমস্ত পরিকল্পনা সফল ভাবে ভুন্ডুল করে দেয়। তাই ড. মূসা বিন শমশেরকে ইহুদি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ও পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই মিলে হত্যার পরিকল্পনা করে।

সুধীমন্ডলী

এই মহান ব্যক্তির বাল্য কালের দু’একটি কথা না বললেই নয়। ১৯৫৯ সালে পাকিস্তানে তখন সামরিক আইন বলবৎ ছিলো। সেই সময় পূর্ব পাকিস্তানের গভর্ণর ছিলেন লেঃ জেনারেল আজম খাঁন। তিনি সরকারী সফরে ফরিদপুর আগমন করেন তখন এই বালক মূসা হঠাৎ সমস্ত বাধাকে অতিক্রম করে পাকিস্তানি আর্মির কঠোর প্রাচীর ভেদ করে গভর্ণর কে রাস্তার উপর দাঁড় করাতে বাধ্য করেন। পাশেই ছিলো তার স্কুল সেই স্কুলের অনুদানের জন্য গর্ভণরকে অনুরোধ করেন। গর্ভণর এই অপ্রতিরোদ্ধ বালকের সাহসীকতা দেখে গাড়ী থেকে নেমে মূসার স্কুল পরিদর্শন করেন এবং তাৎক্ষনিক ভাবে অনুদান মঞ্জুর করেন। পরে গর্ভণর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ফিল্ড মার্শাল আয়ুব খাঁনকে জানান যে, তিনি পূর্ব পাকিস্তানের ফরিদপুর শহরে এক বিস্ময়কর বালকের দেখা পেয়েছেন। পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট আয়ুব খাঁন পূর্ব পাকিস্তান সফরে আসলে ফরিদপুর থেকে সম্পূর্ণ প্রটোকল দিয়ে বালক মূসাকে ঢাকা নিয়ে আসেন এবং একসঙ্গে মধ্যাহ্ন ভোজ করেন এবং চার ঘন্টা সময় অতিবাহিত করেন। যেখানে কোন বাঙ্গালীর প্রবেশ ছিলো অকল্পনীয়। আরেকটা কথা সালটা আমার মনে নেই পূর্ব পাকিস্তানের গভর্ণর তখন মোনায়েম খান। গর্ভণর হাউজে রাষ্ট্রীয় নৈশ ভোজে বালক মূসা আমন্ত্রিত ছিলেন। তাকে বসানো হয়েছিলো একদম প্রথম সারিতে মন্ত্রীদের মাঝখানে। ঐ সময় ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ে ছাত্র আন্দোলনে দানা বাধছিলো। গভর্ণর বাহাদুর তার লিখিত বক্তব্যের পাশে তিনি পূর্ব পাকিস্তানের সমস্ত ছাত্র সমাজ ও তাদের অভিভাবকদের বিরুদ্ধে সাংঘাতিক আপত্তিকর বক্তব্য শুরু করেন। ঠিক তখনি এই অপ্রতিরোদ্ধ ফরিদপুরে বালক মূসা বিন শমশের চিৎকার করে বলেছিলেন Objection মিঃ গভর্ণর। আপনার এই Barbaric remarks যা অমানবিক ও অগ্রহনযোগ্য বক্তব্যের জন্য এই মূহর্তেই আপনাকে সকলের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। সমস্ত ছাত্র সমাজের পিতা মাতাকে শাস্তি দেওয়ার আপনি কে? হয় ক্ষমা চাইবেন নতুবা আমি আপনার দাওয়াত প্রত্যাখান করে লাট ভবন ত্যাগ করবো এখনি। তবে বুদ্ধিমান গভর্ণর নিজের ভুল বুঝতে পেরে তাৎক্ষনিক ভাবে বললেন, Ladies and Gentleman I am sorry.

আরও উল্লেখ্য যে, বঙ্গবন্ধুর সাথে প্রিন্স মূসার প্রথম পরিচয় তিনি যখন বালক ১৯৫৪ সালে। তার নিজ বাড়িতে বঙ্গবন্ধু প্রথম মন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়ে ফরিদপুরে গিয়েছিলেন শুধু তার স্বর্গীয় পিতাকে সালাম করতে। ঠিক তখন থেকেই প্রথম সাক্ষাতেই অন্যান্য উপস্থিত মেহমানদের সামনেই তিনি বালক মূসাকে চৎড়ফরমু হিসাবে আবিষ্কার করেন। তার মৃত্যুর আগ পযর্ন্ত মূসা  ছিলেন বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত স্নেহভাজন ও আদরের। পরবর্তীতে মূসা ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং হয়ে উঠেন বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত বিশ্বস্ত ছাত্র নেতা। ছাত্র নেতা হিসাবে তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব সমৃদ্ধ ও বেগবান হয়েছিলো ফরিদপুর তথা সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র আন্দোলন। স্বাধীনতার পরে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশেই সর্ব প্রথম মূসা জনশক্তি রপ্তানি শুরু করেন।

এছাড়াও বইটি পড়লে জানতে পারবেন শুধু বাংলাদেশ না বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জন্য তার অভূতপূর্ব সব অবদানের কথা। তখনি আপনারা বুঝতে পারবেন এই বইয়ের নাম করনের যথার্থতা। আমার ভুল ভ্রান্তি কিছু থাকলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

আমার আমন্ত্রণ গ্রহন করার জন্য আপনাদের সকলকেই ধন্যবাদ।

সকলেই দোয়া করবেন

আপনাদের স্নেহধন্য

আবুল বাশার

প্রকাশক

মেট্রো পাবলিকেশন্স