সিজারের ছয় মাস পর প্রসুতির পেট থেকে বের হলো গজ

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফরিদপুর টাইমস: (১৭ মার্চ ২০১৯ রোববার)
ছয় মাস আগে সিজারিয়ান অপারেশন করে পেটে গজ ব্যান্ডেজ রেখেই সেলাই করে দিয়েছিলেনন সার্জিকাল ডাক্তার। ৬ মাস যাবত বিভিন্ন হাসপাতাল আর ডাক্তার ঘুড়ে ফরিদপুরে এসে ধরা পরে বিষয়টি। এরপর পুনরায় অপারেশন করে তার পেটের গজ ব্যান্ডেজ বের করা হলেও সংকট কাটেনি। ওই প্রসুতির পেটের ভিতরে পচন ধরায় চিকিৎসকরা তার সুস্থতার বিষয়ে এখনই কিছুই বলতে পারছেন না।চিকিৎসকের এই ভুলে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিব্র যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন সোফিয়া নামে ওই নারী। হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় তিব্র যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছেন ওই প্রসুতি নারী।

জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই প্রসুতির নাম সোফিয়া বেগম (৪০)। তিনি মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার শিকার মঙ্গল ইউনিয়নের চরফতেবাহাদুর গ্রামের তোতা হাওলাদারের স্ত্রী। সোফিয়ার আগেও দুইটি বাচ্চা আছে যা স্বাভাবিক ভাবে প্রসব (নরমাল ডেলিভারী) করেছেন। তৃতীয় সন্তান প্রসবের সময় সিজার করা হয় তার পেটে।

সোফিয়ার স্বামী তোতা হাওলাদার জানান, ৬ মাস আগে প্রসব যন্ত্রনা নিয়ে মাদারীপুরের নিরাময় ক্লিনিকে ভর্তি করান স্ত্রীকে। সেখানকার ডাক্তার রুনিয়া নামে একজন চিকিৎসক তাকে দেখে বলেন জরুরী সিজার করতে হবে। ডাক্তারের কথা শুনে সিজারে রাজী হলে সেদিনই সিজার করে একটি মেয়ে সন্তানের জন্ম দেয় তিনি। এরপর থেকে সোফিয়ার পেট ব্যাথা হতে থাকে। প্রায় ১৫ দিন হাসপাতালে থেকে বাড়ি ফেরার পর অপারেশনের ক্ষত থেকে পুজ বের হতে থাকে। আবারো ওই ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে পেটে প্রথমে ইনফেকশন পরে টিউমার এর কথা বলে আবারো হাসপাতালে ভর্তি করতে বলেন।

তোতা হাওলাদার জানান, এরপরেও তার স্ত্রী সুস্থ না হওয়ায় মাদারীপুরেই অপর এক গাইনী চিকিৎসককে দেখান ওই ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। তারপর যান ঢাকা মিটফোর্ড হাসপাতালে। এরপর বরিশাল হাসপাতালে। কিন্তু কোথাও স্ত্রীর রোগ ধরতে পারেনি, সুস্থও হননি। এরপর গত বৃহস্পতিবার ফরিদপুরের একটি বেসরকারী হাসপাতালে তার পেটে অপারেশন করে ৬ মাস আগের অপারেশনের গজ বের করা হয়।

বেসরকারী ওই হাসপাতালের সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. ফজলুল হক শোভন বলেন, ওই নারীর পেট থেকে পুঁজ আর তিব্র দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। অপারেশন করে তার পেট থেকে গজ ব্যান্ডেজ বের করা হয়েছে। রোগীর পেটের ভেতরে নাড়িতে পচন ধরেছে। তার অবস্থা এখন খুবই ক্রিটিক্যাল। এখনই কিছুই বলা যাচ্ছে না।