অবেশেষে উদ্ধার হলো কিশোর ভ্যানচালক কামরুলের বিভৎস গলিত মৃতদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর টাইমস: (০২ মার্চ ২০১৯ শনিবার)
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় অপহৃত কিশোর ভ্যানচালক কামরুল হাসানের গলিত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ শনিবার দুপুরে সদরপুরের ভাষানচর ইউনিয়নের শৈলডুবি গ্রামের মজুমদারের বাজারের পাশে একটি সর্ষে ক্ষেতের মধ্যে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সদরপুরের কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ঠেঙ্গামারী গ্রামের মৃত ইছহাক তালুকদারের ছেলে কামরুলকে গত ২৪ ফেব্রুয়ারী অপহরণ করে দূর্বৃত্তরা।

আজ শনিবার সরেজমিনে লাশ উদ্ধারের সময় দেখা যায়, নৃশংসভাবে খুন করে কামরুলের লাশ ফেলে রাখা হয়। এসময় তার মুখ ও বাম কাঁধ সহ শরীরের বিভিন্নস্থান জুড়ে পোকা কিলবিল করতে দেখা যায়। তার দুই চোখ উপড়ে ফেলেছে খুনিরা। মাথা ও মুখের অধিকাংশ স্থানের চামড়া নির্মমভাবে তুলে ফেলেছে। বাম কাঁধ থেকে হাত কেটে ফেলা হয়েছে। বাম পা কেটে শরীরের পেছনে বেঁধে রাখা ছিলো। বাম পায়ের কোমড় থেকে হাটু পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে। পুরুষাঙ্গ কেটে আলাদা করে ফেলা হয়েছে। নিহত কামরুলের গলিত মৃতদেহের বিভৎস চিত্র দেখে উপস্থিত জনতা হতবিহ্বল হয়ে পরে।

সর্ষে ক্ষেত থেকে মৃতহেদ উদ্ধারের পর ঠেঙ্গামারী গ্রামে কামরুলদের জরাজীর্ণ বাড়িতে গেলে দেখা যায়, পরিবারের উপার্জনক্ষম সন্তানকে হারিয়ে কামরুলের মা বারবার মূর্চ্ছা যাচ্ছেন। পুরো বাড়িতে নারী পুরুষেরা কান্নায় ভেঙে পরেছেন। মাত্র ১৩ বছরের এই কিশোরকে এমন নির্মমভাবে খুন করা হতে পারে এটি গ্রামবাসী কিছুতেই ভাবতেও পারছে না। ঠেঙ্গামারী গ্রামে একটি পাঠ কড়ির ঘরে মা ও ছোট ভাইকে নিয়ে বাস করতো কামরুল। ৬ বছর আগে পিতা ইছহাক তালুকদার মারা যাওয়ার পরে এই কামরুলই পরিবারের ভরণপোষনের জন্য ভ্যান চালানোর পেশা বেছে নেয়। বাবার মৃত্যুর পর সংসারে চরম অভাব অনটের কারণে তৃতীয় শ্রেণির পর আর পড়াশুনা হয়নি কামরুলের। ছয় মাস আগে ধার দেনা করে কামরুলের মা ৪০ হাজার টাকা খরচ করে তাকে একটি ব্যাটারি চালিত রিক্সা ভ্যান কিনে দেন। ওই ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাতো কামরুল। বড় ভাই কামরুলের এমন নৃশংসভাবে খুন হওয়ার বিষয়টি অবশ্য তার ৭ বছরের ছোট ভাই ইমরান সেভাবে বুঝে উঠতে পারছে না। মায়ের পাশে তাকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়।

সদরপুর থানার ওসি (তদন্ত) সুব্রত গোলদার জানান, কামরুলের মুতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুরের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। অপহরণের পর খুন করে মৃতদেহটি ফেলে রাখা হয়। হত্যা রহস্যের অনেকটাই উম্মোচিত হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, খুব শিঘ্রই মামলার তদন্ত শেষ করতে পারবেন বলে তিনি জানান।

জানা গেছে, কামরুলকে অপহরণের পরপরই তার (কামরুলের) ভ্যানটি নিয়ে বিক্রির জন্য যাওয়ার পথে গ্রামবাসী হান্নান মাতুব্বর (২৮) কে আটক করে। ওই রাতেই হান্নান মাতুব্বর সহ জাকির খাঁ (৩৫) ও নগরকান্দা উপজেলার বিল গোবিন্দপুর গ্রামের মো. বাবলু (৩২) কে আসামি করে অপহরণ ও গুমের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। কামরুলের মা আছমা বেগম। পরে হান্নানের দেয়া তথ্য মতে পুলিশ নিজগ্রামের জাকির খাঁ (৩৫) আটক করে। মামলার অপর আসামী বাবুল পলাতক রয়েছে।

কামরুল হাসান অপহরণ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই কামরুজ্জামান জানান, অপহৃতের মৃতদেহ উদ্ধারের পর এখন অপহরণ মামলাটিই হত্যা মামলা হিসেবে পরিগণিত হবে। এই মামলায় এজাহারভুক্ত তিনজন আসামীর মধ্যে দু’জনকে আটক করা হয়েছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই কামরুজ্জামান আরো জানান, আটক হান্নান অপহরণের কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। আটক জাকিরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করে জেলা সিনিয়র চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে।