ভ্যানচালক কিশোর অপহরণ: সন্ধান মিলেনি ৬ দিনেও

আহম্মদ ফিরোজ, ফরিদপুর টাইমস:(০১ মার্চ ২০১৯ শুক্রবার)

অপহরণের পর পাঁচ দিন চলে গেলেও খোঁজ মেলেনি কিশোর ভ্যানচালক কামরুল হাসানের (১৩)। এ ব্যাপারে কামরুলের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হয়। এ ঘটনার সাথে জড়িত দুই ব্যাক্তিকে আটক করা হলেও কামরুলের কোন সন্ধান পায়নি পুলিশ।

এদিকে, কামরুল অপহরণ মামলার এক আসামী ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দীতে অপহরণের কথা স্বীকার করেছে। আরেক আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

কামরুল হাসান ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ঠেঙ্গামারী গ্রামের মৃত দিনমজুর ইসহাক তালুকদারের ছেলে । দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সে তৃতীয়। তার বাবা ৬বছর আগে মারা যান। দুই বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। দুই ভায়ের মধ্যে কামরুল বড়। ছোট ভাই ইমরান হাসানের বয়স ৭ বছর।

কামরুলের বোন ইসমত আরা বলেন, বাবার মৃত্যুর পর সংসারে চরম অভাব অনটনের কারণে তৃতীয় শ্রেণির পর আর পড়াশুনা হয়নি কামরুলের। ছয় মাস আগে ধার দেনা করে মা ৪০ হাজার টাকা দিয়ে একটি ব্যাটারি চালিত রিক্সা ভ্যান কিনে দেন। ওই ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাতো কামরুল।

কামরুলের মা আসমা বেগম (৪০) জানান, গত ২৪ ফেব্রুয়ারী রোববার দুপুরের খাবারের পর কামরুল ভ্যান নিয়ে বের হয়। এরপর আর পাচ্ছি না তাকে। অসুস্থ্যতার কারণে তিনি কাজ করতে পারেন না। তাই ৪ মাস আগে তাকে ৪০ হাজার টাকা দিয়ে একটি ভ্যান কিনে দিই।

কামরুলের ফুফাতো ভাই মনির হোসেন জানায়, ঘটনার দিন বিকেলে সে তার কাকার ভ্যান নিয়ে হাট কৃষ্ণপুর বাজারে দিকে যাচ্ছিলো। এমন সময় কামরুলকে ভ্যানে যাত্রী নিয়ে বারইহাটের দিকে যেতে দেখে সে পিছু নেয়। এরপর মোল্যার মোড়ের নিকট সে কামরুলের ভ্যান নিয়ে হান্নান মাতুব্বর (২৮) কে যেতে দেখে চিৎকার করে লোক জড়ো করে। তখন কামরুলের ভ্যানটি সহ হান্নানকে আটক করে জনতা।

আটক হান্নান একই উপজেলার পূর্ব কান্দি গ্রামের ইউনুছ মাতুব্বরের ছেলে। বারইহাট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কামরুলের ভ্যানটি নিয়ে সে পার্শ্ববর্তী জানপুরের দিকে যাচ্ছিলো। প্রায় দুই ঘন্টা আটক রেখে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে স্বীকার করে যে, কামরুলকে তারা তিনজন মিলে অপহরণ করেছে।

এই ঘটনায় কামরুলের মা আছমা বেগম বাদী হয়ে সদরপুর থানায় হান্নান মাতুব্বর (২৮), জাকির খা (৩৫) ও নগরকান্দা উপজেলার বিল গোবিন্দপুর গ্রামের মো. বাবলু (৩২) কে আসামি করে অপহরণ ও গুমের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-২৪।

এব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদরপুর থানার এসআই কামরুজ্জামান জানান, আসামী হান্নান ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে স্বীকার করেছে যে, তারা তিনজন মিলে ভ্যানটি ছিনতাইয়ের জন্য কামরুলকে অপহরণ করে। এরপর অপহৃত কামরুলকে জাকির ও বাবুলের কাছে রেখে সে বিক্রির করার জন্য ভ্যানটি নিয়ে যাচ্ছিলো।

মামলার আরেক আসামী জাকির এখনো কোন তথ্য স্বীকার করেনি জানিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, জাকিরকে আরো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আজ শুক্রবার তিনদিনের রিমান্ড আবেদন করে জেলা সিনিয়র চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে। আদালত খুললে রিমান্ড শুনানী হবে। অপহৃত কামরুলের কি হয়েছে এটি এখনও বোঝা যাচ্ছে না বলে তিনি জানান।