মধুখালী উপজেলা চেয়ারম্যানের সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফরিদপুর টাইমস: (০৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ সোমবার)

একটি প্রতারণা মামলায় ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা আজিজার রহমান মোল্যার সম্পত্তি ক্রোকের হুকুম দিয়েছেন ফরিদপুরের অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটের ১ নং আমলী আদালত। তবে আদালতের এই হুকুম ২০ দিনেও তামিল হয়নি। এছাড়া আজিজার মোল্যার ছেলে মামুন মোল্যা একটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এবং আরেক ছেলে মাসুম মোল্যার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারী ওয়ারেন্ট রয়েছে। প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদেরও আটক করছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিগত উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির টিকিটে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর আওয়ামী লীগে যোগ দেন আজিজার রহমান মোল্যা। এবার তিনি আওয়ামী লীগ থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার জন্য এলাকায় পোস্টারিং ও প্রচারণা করে বেড়াচ্ছেন। রহস্যজনক কারণে পুলিশ তাকে খুঁজে পাচ্ছে না।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আজিজার মোল্যা ও তার দুই ছেলে মামুন মোল্যা ও মাসুম মোল্যাকে আসামী করে যুগ্ন দায়রা জজ ১ নং আদালত এবং অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটের ১ নং আমলী আদালতে পৃথক পৃথক মামলা দায়ের করেন ফরিদপুর শহরের হাবেলী গোপালপুর মহল্লার আব্দুস সাত্তার খান। মামলা নং- দায়রা- ৬৮৪/১৮ (কোতয়ালী সিআর- ১৭৩/১৮), কোতয়ালী সিআর-৪৪/২০১৮, সদর সিআর- ৬০৯/১৮ এবং সদর সিআর-৩৮০/১৮।

মামলার বাদি অভিযোগ করেন, ইট ক্রয়ের জন্য তিনি আজিজার রহমান মোল্যাকে ৬ লাখ টাকা এবং তার দুই ছেলে মামুন মোল্যা ও মাসুম মোল্যাকে ৬৪ লাখ প্রদান করেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তাকে প্রতিশ্রুত ইট প্রদান করেননি তারা। এরপর টাকা ফেরত চাইলে নানা অজুহাতে টালবাহানা করার কারণে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।

এর মধ্যে গত বছরের ৮ নভেম্বর দায়রা- ৬৮৪/১৮ (কোতয়ালী সিআর- ১৭৩/১৮) নম্বর মামলার রায়ে আজিজার মোল্যার ছেলে মামুন মোল্যাকে যুগ্ন দায়রা জজ ১ নং আমলী আদালতের বিচারক এক বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং ২১ লাখ টাকা জরিমানা করেন। ওই মামলায় রায়ের আগের দিন পর্যন্ত জামিনে থাকা আসামী মামুন মোল্যা অবশ্য রায় ঘোষনার দিন থেকে পলাতক রয়েছেন।

অপরদিকে, কোতয়ালী সিআর-৪৪/২০১৮ মামলায় আসামী আজিজার রহমান মোল্যাকে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করার পরেও তিনি আদালতে হাজির হননি। এরপর প্রথমে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করা হয়। পরবর্তীতে ফেরারী আসামী হিসেবে অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মাসুদ আলী গত ১৪ জানুয়ারী তার সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ প্রদান করেন।

এছাড়া গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর মাসুম মোল্যার নামেও আরেকটি মামলায় গ্রেফতারী ওয়ারেন্ট জারি করেন অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রট মাসুদ আলী ।

অভিযোগ রয়েছে, আজিজার রহমান মোল্যার সম্পত্তি ক্রোক ও তার ছেলেদের নামে গ্রেফতারী ওয়ারেন্ট তামিলে মধুখালী থানা পুলিশ গড়িমসি করছে।

এব্যাপারে মধুখালী থানার ওসি মিজানুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে জানান, আদালত থেকে এমন কোন ক্রোকের আদেশ পেয়েছি কিনা আমার মনে পড়ছে না। আদালত আদেশ দিলে অবশ্যই সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবো। আর পলাতক আসামী মামুন মোল্যা ও মাসুম মোল্যাকেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান তিনি।