Sat. Dec 14th, 2019

ফরিদপুরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে উম্মুক্ত ডাস্টবিন

আহম্মদ ফিরোজ, ফরিদপুর টাইমস: (২৯ অক্টোবর ২০১৮ সোমবার)
ফরিদপুরে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত মেডিকেল বর্জ্র ফেলা হচ্ছে উম্মুক্ত ডাস্টবিনে সাধারণ ময়লা আবর্জনার সাথে। এতে রোগজীবানু ছড়াচ্ছে মারাত্মক হারে। একটি সূত্র মতে, প্রতিদিন প্রায় আধটন মেডিকেল বর্জ্র মিশে যাচ্ছে পরিবেশের সাথে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটিতেই মানা হচ্ছে না ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট আইন। হাসপাতালের প্রধান ফটকের উত্তর দিকে বিশালাকৃতির একটি ডাস্টবিন নির্মাণ করেছে ফরিদপুর পৌরসভা। হাসপাতালের সামনে গড়ে ওঠা ওই এলাকার বিভিন্ন ক্লিনিক, হোটেল ও বসতবাড়ির ময়লা আবর্জনা ফেলা হচ্ছে সেখানে। একটু দুরে নতুন নির্মিত ফটকের সামনেও ডাস্টবিন ছাড়াই এসব বর্জ্র ফেলা হচ্ছে।
ডাস্টবিনের ময়লা মাঝে মধ্যে পরিস্কার করা হলেও মেডিকেল কলেজের ফটকের দুই পাশের ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করা হয় না। এক দিকে নিয়মিত ময়লা পরিস্কার না করা অপর দিকে প্রতিনিয়ত ময়লা আবর্জনা ফেলায় প্রচন্ড র্দুগন্ধ ছড়াচ্ছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিরাজ করছে সেখানে। এতে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজন সহ চিকিৎসক ও অন্যান্যরা।
শহরের পশ্চিম খাবাসপুর মহল্লায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের্ পাশে ১৯৭৯ সালে স্থাপন করা হয় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ফরিদপুর হাসপাতাল। কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৯৫ সালে। ১৯৯২ সালে এর পাশেই ১৭ দশমিক সাত পাঁচ একর জায়গার উপর স্থাপতি হয় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ। হাসপাতালের নামকরণ করা হয় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
প্রায় সাত বছর আগে এ হাসপাতালের প্রধান ফটকের উত্তর পাশে পৌর কর্তৃপক্ষ একটি ডাস্টবিন নির্মান করে। এটি অধুনিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে এবং ময়লা ফেলার পর তা বাইরে থেকে দেখারও সুযোগ থাকবে না বলে তখন জানিয়েছিলেন পৌর কর্তৃপক্ষ।
নির্মাণের পর দেখা যায় ডাস্টবিনটি পরিচালিত হচ্ছে মান্ধাতার আমলের সেই সনাতনি পদ্ধতিতেই। সেখানে সাধারণ আবর্জনার সাথে মেডিকেল বর্জ্রও ফেলা হচ্ছে। এসব আবর্জনা নিয়মিত পরিস্কার করা হয় না বলে জানান সেখানকার অধিবাসীরা। এটি এখন একটি বিপদ ও দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পৌরসভার ওই ডাস্টবিন থেকে প্রায় দুইশ’ গজ দূরে রয়েছে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান ফটক। ডাস্টবিনের পাশাপাশি ওই ফটকের দুই পাশে ময়লা আবর্জনা ফেলছে ওই এলাকার বিভিন্ন ক্লিনিক, খাবার হোটেলসহ এলাকার বসত বাড়ি হতে। এ ময়লা কখনোই অপসারণ করা হচ্ছে না।
ওই এলাকার চা বিক্রেতা রুস্তম আলী বেপারি জানান, কলেজের গেটের দুই পাশে এই এলাকার বিভিন্ন ক্লিনিক ও খাবার হোটেল থেকে ময়লা ফেলা হয়। এ ময়লা কখনই পরিস্কার করা হয় না। মাত্র দুই গজ দূরে হাসপাতালের গেটের সামনে একটি ডাস্টবিন থাকলেও সেখানে এ এলাকার লোক ময়লা ফেলতে যায় না।
ওই এলাকার মেডিসিন ব্যবসায়ী মো. শহীদ মিয়া জানান, গত তিন/চার বছর ধরে এ কলেজের গেটের দুই পাশে ময়লা ফেলা হচ্ছে। হাসপাতালের সামনের ডাস্টবিন থেকে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা মাঝে মাঝে ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করলেও কলেজে সামনের ময়লা পরিস্কার করেন না। তিনি আরও বলেন, পৌরসভার কর্মীরা বেলা ১০ থেকে ১১টার মধ্যে ডাস্টবিনের ময়লা পরিস্কার করেন। ওই সময় ওই এলাকায় দুর্গন্ধে বসে থাকার মুসকিল হয়ে দাঁড়ায়।
কয়েকজন এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, মেডিকেল কলেজের আশেপাশের বাসার লোকজন প্রতিনিয়ত এখানে ময়লা ফেলে। এর পাশাপাশি ইউনিক ক্লিনিক, লিলি ক্লিনিক, শাহ ফরিদ ক্লিনিক, সাফা মক্কা ক্লিনিক এবং ইসমাইল, পরিমল ও আজাদ শেখের খাবার হোটেলের সব ময়লা কলেজের গেটের দুই পাশে ফেলা হচ্ছে।
আজাদ শেখের খাবার হোটেলের কর্মচারি কামাল মৃধা জানান, হোটেলের মালিকের নির্দেশে কলেজের গেটের সামনে এ হোটেলের ময়লা ফেলা হয়। তিনি বলেন, মালিক মানা করলে আমরা ময়লা ফেলবো না।
পরিমল সাহার খাবার হোটেলের কর্মচারি আজীবর শেখ বলেন, এলাকার সক ক্লিনিক ও হোটেল থেকে ওখানে ময়লা ফেলা হয়। এজন্য আমরাও ফেলি।
ইউনিক হাসপাতালের কর্মচারি (ওটিবয়) সরোয়ার হোসেন বলেন, অন্য ক্লিনিকের দেখাদেখি আমরাও ময়লা ফেলি।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ এস এম খবিরুল ইসলাম বলেন, কলেজের প্রবেশ পথে এ ভাবে ময়লা ফেলায় পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এ ময়লা নিয়ে আমরা দারুন দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছি। আমার প্রত্যাশা এ ময়লা ফেলা বন্ধ করা ও ময়লা অপসারণের উদ্যোগ নেবে পৌরসভা।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক কামদা রঞ্জন সাহা বলেন, হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে ডাস্টবিনটি যেমন দৃষ্টিকটু তেমনি রোগী ও চিকিৎসক এলাকার সকলের জন্যই হার্মফুল। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এ ডাস্টবিনটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য পৌরসভার কাছে অনুরোধ জানাই।
ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র শেখ মাহাতাব আলী ওরফে মেথু বলেন, মেডিকেল কলেজের গেটের দুই পাশে ময়লা আবর্জনা ফেলার বিষয়টি তার জানা নেই। তিনি বলেন, ওই ময়লা অপসারণ ও এলাকাবাসী যাতে ময়লা না ফেলে সে ব্যাপারে উদ্যোগ নেবেন তিনি।
মেয়র আরও বলেন, হাসপাতালের সামনের ডাস্টবিন থেকে নিয়মিত ময়লা পরিস্কার করার কথা। তবে মাঝে মধ্যে এর ব্যতয় ঘটে। এ ব্যতয় যাতে না ঘটে এ বিষয়টি তিনি নজরদারিতে রাখবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.